Back

ⓘ সৈয়দ মহসিন আলী




                                     

ⓘ সৈয়দ মহসিন আলী

সৈয়দ মহসিন আলী বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের একজন জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।

                                     

1. প্রাথমিক জীবন

সৈয়দ মহসিন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আশরাফ আলী এবং মাতা আছকিরুন্নেছা খানম। ছাত্রলীগের একজন সদস্য হিসেবে মহসিন আলী ছাত্রজীবনেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৭১ এর ২৩ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মহকুমা/জেলা রেডক্রিসেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্বও পালন করেন।

                                     

2. রাজনৈতিক জীবন

মহসিন আলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে থেকে পরপর তিনবার মৌলভীবাজার পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে স্থানীয় সরকারের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন। তিনি থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে পরিবার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭-মৌলভীবাজার-৩ আসন হতে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

                                     

3. পুরস্কার এবং সম্মাননা

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।

২০১৫ সালে সৈয়দ মহসিন আলী ভারতের আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটির কাছ থেকে ‘আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০১৪’ লাভ করেন এবং ‘হ্যালো কলকাতা’ নামে কলকাতাভিত্তিক একটি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান তাকে ‘নেহেরু সাম্য সম্মাননা-২০১৪’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

                                     

4. ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ মহসিন আলী বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তিনি একজন সঙ্গীতপ্রিয় ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনও করতেন। এছাড়া, মৌলভীবাজারে মানবদরদী হিসেবেও তার সুনাম ছিল। অভাবগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতেন ও অসুস্থ মানুষদের নিজ খরচে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতেন।

                                     

5. সমালোচনা

সৈয়দ মহসিন আলী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হন। ২০১৪ সালে সিলেটে একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ধূমপান করা নিয়ে তিনি প্রথম সমালোচিত হন ও এজন্য পরবর্তীকালে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরেও তিনি পুনরায় প্রকাশ্যে ধূমপান অব্যহত রাখেন। এছাড়াও তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকতা নিয়ে সমালোচনা করেন ও সাংবাদিকদের তাদের ‘খবিশ’ ও ‘চরিত্রহীন’ বলা নিয়ে ব্যপক সমালোচিত হন।

                                     

6. মৃত্যু

মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন।