Back

ⓘ ফলকনুমা প্যালেস




ফলকনুমা প্যালেস
                                     

ⓘ ফলকনুমা প্যালেস

ফলকনুমা প্যালেস হল ভারতের হায়দ্রাবাদ এ অবস্থিত সব সুন্দর প্রাসাদ গুলোর অন্যতম একটি। এটা পায়গাহ হায়দ্রাবাদ রাজ্যর অন্তর্ভুক্ত ছিল যেটা পরে নিজাম দের মালিকানাধীনে ছিল। এই প্রাসাদ টা ফলকনুমা তে ৩২ একর জমির উপর দাড়িয়ে যেটা চারমিনার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটাএর দুরত্বে অবস্থিত। এটির নির্মাণ করেছিলেন নবাব ভাইকার -উল-উমরা যিনি তখন হায়দ্রাবাদ এর প্রধান মন্ত্রী ছিলেন এবং সম্পর্কে তিনি নিজাম ৬, নবাব মীর মাহবুব আলী খান বাহাদুএর কাকা এবং শ্যালক ছিলেন| উর্দু তে ফলক-নুমা শব্দের তাৎপর্য হল "আকাশের মতন" অথবা "আকাশের আয়না"।

                                     

1. নকশা

একটি ইংরেজ স্থপতি দ্বারা এই প্রাসাদ টি নির্মিত হয়েছিল। ১৮৮৪ সালে মার্চ মাসের ৩ তারিখ স্যার ভাইকার এটার নির্মাণ এর জন্য ফাউন্ডেশনটা স্থাপন করেন। তিনি খুদদাস নামক একজন বৈজ্ঞানিক যিনি কিনা চার্লস ডারউইন এর ও বন্ধু ছিলেন, তার নাতির ছেলে ছিলেন। এটি নির্মাণ এর জন্য এবং সম্পূর্ণ প্রাসাদ কে সজ্জিত করার জন্য ৯ বছর সময় লাগে| এটা সম্পূর্ণ ভাবে ইতালীয় মার্বেল দিয়ে তৈরী করা হযেছে এবং এটি ৯৩,৯৭১ বর্গ মিটাএর উপর বানানো হযেছে|

এই প্রাসাদ টা একটি কাঁকড়ার আকারে বানানো হযেছে যার দুটো দাঁড় উত্তরের দিকে ছড়ানো| মাঝের অংশ টা মূল ভবন দখল করে রেখেছে এবং দক্ষিণে অবস্থিত আছে রান্নাঘর, গোল বাংলা, জেনানা মহল এবং হারেম আবাস| এই নবাব একজন ক্ষুধিত যাত্রী ছিল, এবং তার প্রভাব এই স্থাপত্যর মধ্যে দিয়ে প্রদর্শন করেছেন|

এই ফলকনুমা প্যালেস টি ইতালীয় এবং টিউডার স্থাপত্যের একটি বিরল মিশ্রন| তার দাগী কাচের জানালা, কক্ষর মধ্যে রং এর একটি বর্ণালী নিক্ষেপ করে|

                                     

2. ইতিহাস

স্যার ভাইকার এই জায়গা টিকে তার নিজের ব্যক্তিগত বাসভবন হিসাবে ব্যবহার করতেন ততদিন যতদিন এটার কর্তৃপক্ষর ভার ওনার কাছে ছিল| পরবর্তী কালে এই প্রাসাদ টিকে ১৮৯৭-৯৮ নাগাদ হায়দ্রাবাদ এর নিজাম এর হাতে স্থানান্তর করা হয়| ফলকনুমা প্যালেস তৈরী করতে প্রচুর খরচা হযেছিল যার দরুন স্যার ভাইকার কে অনেক টাকা ধার করতে হযেছিল এবং পরে তিনি এটা বুঝেছিলেন যে তিনি তার সাধ্যের বাইরে গিয়ে অনেক বেশি টাকা খরচা করে ফেলেছেন| পরে ওনার বুদ্ধিমান স্ত্রী, লেডি উল উমরার চালাকির জোরে তিনি এই প্রাসাদ টি নিজাম ক উপহার হিসাবে দেন যার বদলে উনি এই প্রাসাদ টি তৈরী করার জন্য সব খরচা ফেরত পেয়ে যান| পরবর্তী কালে নিজাম এই প্রাসাদ টিকে একটি রাজকীয় গেস্ট হাউস হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন কারণ এখান থেক পুরো শহরের একটি সুন্দর দৃশ্য দেখা যেত|

২০০০ সাল অবধি এই প্যালেস নিজাম পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল এবং সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না| ১৯৫০ এর পর এই প্রাসাদ টি শান্ত হয়ে যায় যখন নিজাম চলে যায়| এই প্রাসাদের শেষ অতিথি ছিলেন ১৯৫১ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি, রাজেন্দ্র প্রসাদ| তারপর থেকে বেশিরভাগ সময় প্রাসাদ টি বন্ধ থাকত এবং এটা পরে একটি বিশাল পুনরূদ্ধার কার্যের মধ্য দিয়ে যায় যখন ২০০০ সালে নিজাম যুবরাজ মুক্কারাম জাহ বাহাদুর এটাকে তাজ হোটেলস এর কাছে ৩০ বছরের লিজ চুক্তিতে দেন|

                                     

3. প্রাসাদ

প্রাসাদ টির একটি প্রধান হাইলাইট হল এটার স্টেট রিসেপশন রুম যার ছাদ টা বিভিন্ন ফ্রেস্কো দ্বারা সাজানো হযেছে| এখানে নৃত্যশালার মধ্যে একটি দুই টন নিজে পরিচালিত অর্গান আছে যেটা সারা বিশ্বে অনন্য|

প্রাসাদ টিতে ৬০ খানা প্রচুর পরিমাণে সজ্জিত কক্ষ ও ২২ খানা প্রশস্ত হল আছে| এখানে নিজামদের ধনের কিছু সেরা সংগ্রহ আছে|

এই প্রাসাদে জেড এর সংগ্রহ বিশ্বের অনন্য বলে মনে করা হয়|

এই প্রাসাদের বিখ্যাত ভোজনশালায় ১০০ জন অথিতি একসাথে বসতে পারে| এই টেবিলের দৈর্ঘ্য ১০৮ ফুট, প্রস্থ ৫.৭ ফুট এবং উচ্চতা ২.৭ ফুট|

এই প্রাসাদে একটি লাইব্রেরি আছে যার ভিতর ভারতের মধ্যে কুরআন এর একটি অনন্য সংগ্রহ রযেছে|

এখানে একটি বিলিয়ার্ড রুম আছে| ইংল্যান্ড থেকে বারোজ এবং ওয়াটস দুটি অভিন্ন টেবিল ডিজাইন করে যার মধ্যে একটি বাকিংহাম প্যালেস এবং অন্যটি ফলকনুমা প্যালেস এ অবস্থিত|

অবতরণ এর দেয়ালে অনেক তৈল চিত্র এবং উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের ফটোগ্রাফ আছে|

এই প্রাসাদে টেলিফোন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ওস্লার দ্বারা ১৮৮৩ সালে চালু হয় এবং এই প্রাসাদে ভারতের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড রয়েছে|



                                     

4. একটি বিলাশবহুল হোটেল এ নবীকরণ

২০০০ সালে তাজ হোটেল এই প্রাসাদের সংস্কার এবং পুনরূদ্ধার কার্য শুরু করে| এই পুন: সংস্কার করা প্রাসাদ টি অথিতি দের জন্য ২০১০ সালে নভেম্বর মাসে খোলা হয়| এর কক্ষ ও হল গুলো কে ফ্রান্স থেকে আনা অর্নেট ফার্নিচার, হস্তশিল্প এবং ব্রকেদ দিয়ে সাজানো হয়েছে| এই প্রাসাদে একটি ১০১ আসন এর ডাইনিং হল আছে যাকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে মনে করা হয়| তার সাথে এখানে দরবার হল আছে যেটাকে অসম্ভব সুন্দর এবং নিখুত শিল্প দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে|