Back

ⓘ তুঁতে




তুঁতে
                                     

ⓘ তুঁতে

তুঁতে বা কপার সালফেট বা কপারসালফেট একপ্রকার অজৈব রাসায়নিক যৌগ। এর রাসায়নিক সংকেত CuSO 4 x যেখানে x এর মান ০ থেকে ৫। পেন্টাহাইড্রেট গঠনটি সর্বাধিক দেখা যায়। এই যৌগের পুরনো নামগুলির মধ্যে রয়েছে ব্ল‌ু ভিট্রিওল, ব্ল‌ুস্টোন, ভিট্রিওল অফ কপার, এবং রোমান ভিট্রিওল ।

                                     

1. প্রস্তুতি এবং সংঘটন

বাণিজ্যিকভাবে গরম গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিড বা লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড এর সঙ্গে কপার ধাতু যুক্ত করে কপার সালফেট উত্পাদন করা হয়। সাধারণত পরীক্ষাগারে ব্যবহারের জন্য কপার সালফেট ক্রয় করা হয়।

কপার সালফেটের নির্জল ফর্ম ক্যালকোসায়ানাইট নামে পরিচিত বিরল খনিজ হিসাবে দেখা দেয়। জলয়োজিত কপার সালফেট ক্যালকেনথাইট প্যান্টাহাইড্রেট নামে প্রকৃতিতে সংগঠিত হয়। আরো বিরল দুটি হল: বোনাট্টাইট ট্রাইহাইড্রেট এবং বুথাইট হেপ্টাহাইড্রেট।

                                     

2. রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য

জলের জলয়োজনের কারণে ইহার রঙ নীল হয়ে থাকে।

কপার সালফেটের খুব জোরালোভাবে গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। বিক্রিয়ায় কপার ২ এর টেট্রাক্লোরোকিউপ্রেট গঠনের কারণে কপার ২ এর নীল দ্রবণ সবুজে পরিনত হয়।

Cu 2 + + 4 Cl - →

ইহা আরো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু সঙ্গে বিক্রিয়া করে।

CuSO 4 + Zn → ZnSO 4 + Cu CuSO 4 + Fe → FeSO 4 + Cu CuSO 4 + Mg → MgSO 4 + Cu CuSO 4 + Sn → SnSO 4 + Cu 3 CuSO 4 + 2 Al → Al 2 SO 43 + 3 Cu

ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যালুমিনিয়ামের তুলনায় আরো প্রতিক্রিয়াশীল কিছু ধাতু একটি মাধ্যমিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিছু হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে তারা জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রক্সাইড গঠন করে।

গঠিত তামা অন্যান্য ধাতু পৃষ্ঠের উপর জমা হয়। ধাতুর মুক্ত পৃষ্ঠ শেষ হয়ে গেলে বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

                                     

3.1. ব্যবহারসমূহ উদ্ভিদনাশক, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক হিসাবে

কপার সালফেট প্যান্টাহাইড্রেট একটি ছত্রাকনাশক। কিছু ছত্রাক কপার আয়নকে উঁচু স্তরে অভিযোজিত করতে সক্ষম হয়। ইহাকে চুনের সঙ্গে মিশ্রিত করে বোরডিয়াক্স মিশ্রণ তৈরী করা হয়, যা আঙ্গুর, বাঙ্গি, এবং অন্যান্য রসালো ফলের উপর ছত্রাক নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়। কৃষিকাজে উদ্ভিদনাশক হিসাবে কপার সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের মিশ্রণে উত্পাদিত চিশান্ট যৌগ ব্যবহার করা হয়। এটি একটি শেওলা নাশক হিসাবে সুইমিং পুলেও ব্যবহার করা হয়। অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে শামুক মুছে ফেলার জন্য এবং পরজীবীর সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য কপার সালফেটের একটি পাতলা দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।

                                     

3.2. ব্যবহারসমূহ বিশ্লেষণাত্মক বিকারক

বেশ কিছু রাসায়নিক পরীক্ষায় কপার সালফেট ব্যবহার করা হয়। এটা ফেলিং দ্রবন এবং বেনেডিক্ট দ্রবনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও কপার ২ সালফেট প্রোটিন পরীক্ষায় বিউরেট বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রক্তে রক্তাল্পতা পরীক্ষায় কপার সালফেট ব্যবহৃত হয়।

শিখা পরীক্ষায় কপার অায়ন গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে। বেরিয়াম পরীক্ষায় অত্যধিক গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

ক্লোরিনের উপস্থিতিতে কপার আয়ন গভীর নীল বর্ণ ধারণ করে।

                                     

3.3. ব্যবহারসমূহ চিকিৎসা

কপার সালফেট একটি বমনোদ্রেককর হিসাবে অতীতে ব্যবহার করা হত। এই ব্যবহারের জন্য এটা এখন খুব বিষাক্ত মনে করা হয়। এটা এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর শারীর চিকিত্সাগতিক রাসায়নিক ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম একটি প্রতিষেধক হিসাবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

                                     

3.4. ব্যবহারসমূহ শিল্পকর্মে

এছাড়াও কপার সালফেট দস্তার প্লেট খোদাই করতে ব্যবহৃত হয়।

                                     

4. বিষক্রিয়াজনিত প্রভাব

কপার সালফেটের একটি যন্ত্রণাদায়ক। চামরায় লাগালে চুলকানি বা কাউর হতে পারে।

মৌখিক এক্সপোজারের পর, কপার সালফেট শুধুমাত্র পরিমিতরূপে বিষাক্ত। গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের উপর বিষাক্ত প্রভাব সৃষ্টির জন্য কপার সালফেটের সর্বনিম্ন ডোজ হল 11 গ্রা / কেজি। যদি কপার সালফেট পেটে বজায় থাকে তবে লক্ষণ গুরুতর হতে পারে। যদি কেউ কপার সালফেটের ১-১২ গ্রাম গ্রস্ত হয়, তবে বিষক্রিয়ায় লক্ষণ হল ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বুকে জালাপোড়া, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, মাথা ব্যাথা, অপ্রচলিত মূত্রত্যাগ, মুখের মধ্যে একটি ধাতব স্বাদ পাওয়া। তামা সালফেটের বিষক্রিয়ায় মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, যকৃত, কিডনিতে আঘাত পারে।