Back

ⓘ পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবি




পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবি
                                     

ⓘ পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবি

আগস্ট ৪, ২০১৪ তারিখে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে মাওয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। লঞ্চটি শরীয়তপুরের কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া লঞ্চঘাটে যাচ্ছিল।

                                     

1. কারণ

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং প্রবল স্রোতের কারণে লঞ্চটি ডুবে যায় বলে ধারণা করা হয়। ১৯৯১ সালে তৈরি এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটি শান্ত পানিতে চলাচলের জন্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সনদ দেয়। এতে যাত্রী ওঠার কথা ছিল সর্বোচ্চ পঁচাশিজন। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন এতে তিন থেকে চার গুণ যাত্রী উঠানো হয়।

                                     

2. উদ্ধার অভিযান

লঞ্চটি ডুবে গেলে আশপাশের লোকজন তাৎক্ষনিক উদ্ধারে এগিয়ে আসে। এতে প্রায় ১২০+ জনের মত যাত্রী বেঁচে যান। এরপর উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ দমকল বাহিনী,বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান ও স্থানীয় জনগণ। একই দিন সন্ধায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। পরের দিন উদ্ধারতত্পরতায় কালক্ষেপণের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। ৬ তারিখ বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ পদ্মা নদীর ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তল্লাশি করে লঞ্চ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। লঞ্চ ডুবিপর বিভিন্ন জায়গায় নদীতে লাশ ভেসে উঠে। ৫ তারিখ চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ তারিখ চাঁদপুরের সদর উপজেলা ও হাইমচর এবং ভোলা সদর উপজেলার নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ৭ তারিখ উদ্ধারকারী জাহাজ কাণ্ডারি-২ অনুসন্ধান করা শুরু করে ও সকাল থেকে দশটি লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে ১০ কিলোমিটারজুড়ে অনুসন্ধান চালায়। পঞ্চম দিন উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভে ভেসেল জরিপ-১০। এটির সাথে লঞ্চের সন্ধানে কাণ্ডারি-২, অনুসন্ধান জাহাজ সন্ধানী, তিস্তা ও নৌবাহিনীর এলসিটি-০১২ অনুসন্ধান চালায়। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিন দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাণ্ডারি-২ এর সাইড স্ক্যানার সোনারে নদীর নিচে একটি ধাতব বস্তুর অবস্থান ধরা পড়ে। পরে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেন ধাতব বস্তুটি পিনাক নয়। সপ্তম দিনে স্থানীয় প্রশাসন নিখোঁজের সংখ্যা অর্ধেকে নিয়ে আসে। এ দিন সনাতন পদ্ধতিতে দুই দিন ধরে মাঝ পদ্মায় টোটকা অভিযান চালালেও লঞ্চটির কোনো হদিস পায়নি অভিযানকারী দল। একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজ পিনাক-৬ উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় মেদেনীমন্ডল এলাকাবাসী টোটকা অভিযানের উদ্যোগ নেয়। অষ্টম দিন পিনাক-৬ লঞ্চের সব ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণ করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক।

                                     

3. শোক প্রকাশ

লঞ্চডুবির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। ৮ তারিখা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই দুর্ঘটনায় শোক জানান।