Back

ⓘ দেয়াল (উপন্যাস)




                                     

ⓘ দেয়াল (উপন্যাস)

দেয়াল বাংলাদেশি লেখক হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিত্তিক উপন্যাস। এটি তার রচিত সর্বশেষ উপন্যাস যা তার মৃত্যুর ১ বছর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবার পূর্বেএই উপন্যাস নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয় এবং তা আদালত পর্যন্তও গড়ায়। হাইকোর্টের পরামর্শানুযায়ী লেখক উপন্যাসটির প্রথম প্রকাশিত রূপের পরিবর্তন সাধন করেন। এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানতম রাজনৈতিক চরিত্র এবং ঘটনাবলি লেখক নিজ ভাষা ও কল্পনাপ্রসূত ঢঙে চিত্রায়িত করেছেন।

২০১১ সালের মাঝামাঝিতে হুমায়ুন আহমেদ দেয়াল রচনা শুরু করেন। সেসময় উপন্যাসের পাঁচটি পর্ব ধারাবাহিকভাবে অন্যদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর বেশ কিছুদিন বিরতিপর যুক্তরাষ্ট্রে তার ক্যানসার চিকিৎসা চলাকালে তিনি নতুন করে এটি রচনায় মনোনিবেশ করেন, যদিও শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটির চূড়ান্ত রূপ দেয়ার সুযোগ পান নি। বইটি লেখার ক্ষেত্রে তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে লিখিত বহু গ্রন্থকে তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস রচিত বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ গ্রন্থটি অন্যতম।

                                     

1. সারাংশ

উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের পটভুমিতে রচিত। এখানে লেখক বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে সমসাময়িকভাবে নিজেকেও উপস্থাপন করেছেন। এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র হল: অবন্তি, শফিক, সরফরাজ খান, ইসাবেলা, পীর হামিদ কুতুবি, ক্যাপ্টেন শামস, হাফেজ জাহাঙ্গীর, মেজর ফারুক, মেজর ইশতিয়াক, শেখ মুজিবুর রহমান, খালেদ মোশাররফ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহের, মোশতাক আহমেদ, তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ডোরা রাসনা, ছানু ভাই, আওয়ামী লীগার মোজাম্মেল, মেজর নাসের, মেজর রশীদ, আন্ধা পীর, মেজর ডালিম, ভারতীয় গুপ্তচর কাও, রাধানাথ, চা বিক্রেতা কাদের মোল্লা, শামীম শিকদার প্রমুখ।

                                     

2. বিতর্ক

২০১২ সালের মে মাসে দৈনিক প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে উপন্যাসটির দুটি অধ্যায় প্রকাশিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার বিবরণে তথ্যগত ভুল থাকায় আদালত তা সংশোধনের নির্দেশ দেয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ভাষ্যমতে,

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে খন্দকার মোশতাক আহমেদ জড়িত ছিলেন বলে মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে এসেছে। কিন্তু মোশতাক আহমেদ কিছুই জানতেন না, এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে ঐ উপন্যাসে।

এছাড়াও প্রকাশের আগে বইটির একটি অংশের ঐতিহাসিক তথ্যের সঠিকতা নিয়ে নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বাংলাদেশ অভ্যুত্থানে শেখ রাসেল হত্যার সাথে সম্পর্কিত ছিল, এবং এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাংলাদেশ উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেন। হাইকোর্টের আদেশ ছিল যে, বইটির প্রথম অংশ পরিবর্তন করতে হবে এবং হুমায়ূন আহমেদকে রাসেল হত্যার রায়ের একটি অনুলিপি সরবরাহ করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি ঐতিহাসিক তথ্যগত ভুলত্রুটি সংশোধন করতে পারেন।

তবে এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, "দেয়াল কোনো রাজনৈতিক উপন্যাস নয়, এ এক ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস৷ এতে ইতিহাসের খলনায়কদেরকে খলনায়ক হিসেবেই দেখানো হয়েছে"। পরবর্তীকালে হুমায়ূন আহমেদ কর্তৃক সংশোধিত বইটি অন্যপ্রকাশ ২০১৩ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করে।

                                     

3. প্রাপ্তি

দেয়াল ২০১৪ সালের একুশে বইমেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বই ছিল। ২০১৩ সালে বিচারপতি শামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বাংলাদেশ উচ্চ আদালতেএর শেখ মো. জাকির হোসেন কর্নেল আবু তাহের হত্যাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রায় জারি করেছিলেন, যেখানে তারা দেয়াল উপন্যাস হতে এ সম্পর্কিত তথ্য উল্লেখ করেন।