Back

ⓘ নীলফামারী জেলা




নীলফামারী জেলা
                                     

ⓘ নীলফামারী জেলা

নীলফামারী জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা । এটি রংপুর বিভাগের আটটি জেলার একটি অন্যতম সীমান্তঘেষা জেলা। এ জেলার সদর বা রাজধানীর নামও নীলফামারী। নীলফামারী জেলার উত্তর সীমান্তে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা এবং অন্য দিকে লালমনিরহাট জেলা, রংপুর জেলা, দিনাজপুর জেলা ও পঞ্চগড় জেলা অবস্থিত।

নীলফামারী জেলাকে নীলের দেশ বলা হয়। এই জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভূ-সংস্থান বেশ সমৃদ্ধ যা অন্যান্য জেলা থেকে এই জেলাকে কিছুটা হলেও আলাদা করেছে। জেলার উত্তর দিক উচু ও খরা পিরিত অঞ্চল, পূর্ব দিক তিস্তার বালুকাময় এলাকা, এই উচু ও বালুময় ভূমি ধীরে ধীরে দক্ষিণপশ্চিম দিকে উর্বর কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। নীলফামারী অতীত ইতিহাসের অনেক সাক্ষী বহন করে। এ জেলায় সত্যপীরের গান, হাঁস খেলা, মাছ খেলাসহ অনেক উৎসব ও মেলার আয়োজন হয়।

নীলফামারী একটি কৃষি প্রধান জেলা। এ জেলার ৬৮.৫% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানকার প্রধান শিল্প বয়ন, চাল, বাশবেত প্রভৃতি। দারোয়ানী বস্ত্র কল এ জেলার সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উত্তরা ইপিজেড ও সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর মত শিল্প পার্ক।

                                     

1. নামকরণ

দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়।

সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হতো এখানকার উর্বর মাটির গুণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদঅঞ্চলে। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি।ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীল খামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।

                                     

2. ভৌগোলিক অবস্থান

রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ৪০০ কিঃমিঃ দুরে ১৫৮০.৮৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট নীলফামারী জেলার অবস্থান, যা কর্কটক্রান্তি রেখার সামান্য উত্তরে, ২৫°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°১৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৯°১২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ জেলার পূর্বে রংপুর জেলা ও লালমনিরহাট জেলা, দক্ষিণে রংপুর জেলা ও দিনাজপুর জেলা,পশ্চিমে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলা ও পঞ্চগড় জেলা এবং উত্তরে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা।

                                     

3. স্থানীয় সরকার

১৮৭৫ সালে মহকুমা ও পরে ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়।প্রথম নির্বাচিত এবং বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন।

পৌরসভা

এই জেলায় মোট ৪ টি পৌরসভা

  • ডোমার পৌরসভা
  • নীলফামারী পৌরসভা
  • জলঢাকা পৌরসভা
  • সৈয়দপুর পৌরসভা

উপজেলা পরিষদ

মোট ৬ টি উপজেলা নিয়ে নীলফামারী জেলা।

  • নীলফামারী সদর উপজেলা
  • সৈয়দপুর উপজেলা
  • ডিমলা উপজেলা
  • জলঢাকা উপজেলা
  • ডোমার উপজেলা
  • কিশোরগঞ্জ উপজেলা ও
                                     

4.1. শিক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • মশিঊর রহমান ডিগ্রী কলেজ, নীলফামারী
  • সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয়
  • সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়।
  • জলঢাকা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, জলঢাকা, নীলফামারী।
  • নীলফামারী সরকারি কলেজ, নীলফামারী
  • গোড় গ্রাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলফামারী ।"
  • ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ
  • নীলফামারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, নীলফামারী
  • ডিমলা রাণী বৃন্দা রাণী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়
  • কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
  • ছোটখাতা বহুমুখী ফাজিল মাদরাসা, ডিমলা, নীলফামারী।
  • সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল
  • বালাগ্রাম কৃষি কলেজ। বালাগ্রাম,জলঢাকা, নীলফামারী।
  • কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
  • চিলাহাটি সরকারি কলেজ
  • ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ,সৈয়দপুর
  • টেংগনমারী ডিগ্রী কলেজ, জলঢাকা, নীলফামারী
  • বালাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। বালাগ্রাম,জলঢাকা, নীলফামারী।
  • ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সৈয়দপুর
  • কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, নীলফামারী
  • জলঢাকা কলেজ
  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সৈয়দপুর
  • নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • সৈয়দপুর সরকারি কলেজ
  • নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • নীলফামারী মেডিকেল কলেজ
  • নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ,
  • বাবরীঝাড় দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারী।
  • ডোমার সরকারি কলেজ,
  • ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়


                                     

5. অর্থনীতি

নীলফামারী মূলত একটি কৃষি নির্ভর জেলা। জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা, ও মরিচ। জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর অববাহিকায় প্রচুর ভুট্টার চাষ হয়। ডোমার, ডিমলায় মরিচের চাষ হয়। এছাড়া আলু, ধান, গম, সরিষা, পাট, তামাক প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

                                     

6. চিত্তাকর্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

আদি নাম বিন্যাদিঘী বা বিরাট রাজার দিঘি - যা বর্তমান নীলসাগর নামে পরিচিত, ধর্মপালের গড়,তিস্তা ব্যারেজ ও সেচ প্রকল্প, কুন্দুপুকুর মাজার, হযরত শাহ কলন্দর মাজার, হরিশচন্দ্রের পাঠ, ময়নামতির দূর্গ, ভীমের মায়ের চুলা,চীনা মসজিদ, সৈয়দপুর চার্চ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল, উত্তরা ইপিজেড, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ডিমলা রাজবাড়ী, বালাপাড়া গণকবর জলঢাকা মুন্নু পার্কসাইটের পাড় ইত্যাদি

                                     

7. উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • বিচারপতি মোস্তফা কামাল, সাবেক প্রধান বিচারপতি;
  • শফিকুল গনি স্বপন, সাবেক মন্ত্রী;
  • রথীন্দ্রনাথ রায়, ভাওয়াইয়া শিল্পী;
  • হরলাল রায়, ভাওয়াইয়া শিল্পী;
  • আনিসুল হক, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক;
  • মহেশ চন্দ্র রায়, উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী।
  • কাজী কাদের, সাবেক মন্ত্রী পাকিস্তান আমল;
  • বেবি নাজনিন, কন্ঠশিল্পী।
  • শাহ কলন্দর পীর ও কামেলের আধ্যাত্মিক শক্তি ও ইসলামের মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ অঞ্চলের বহু লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা যায়নি। উত্তরাঞ্চলের প্রথম পর্যায়ের ইসলাম প্রচারকদের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্য। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় হযরত শাহ কলন্দর রা: এর মাজার অবস্থিত।
  • আসাদুজ্জামান নূর, নাট্য ব্যক্তিত্ব; বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ; নীলফামারী-২
  • মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, প্রথম চেয়ারম্যান নীলফামারী জেলা পরিষদ ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড।
  • শহীদ জননী জাহানারা ইমাম;
  • মশিউর রহমান যাদু মিয়া জিয়াউর রহমান সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন;
  • মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জ. ১৯৬৮
  • খয়রাত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী;