Back

ⓘ মাগুরা জেলা




মাগুরা জেলা
                                     

ⓘ মাগুরা জেলা

মাগুরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি খুলনা বিভাগের একটি জেলা। ঢাকা থেকে মাগুরার দূরত্ব ১৭৬ কিলোমিটার। বাস যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বাসে মাগুরা থেকে ঢাকা যেতে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। মাগুরায় কোনও ট্রেন যোগাযোগ নেই। অদূর ভবিষ্যতে ট্রেন যোগাযোগ চালু হবে এই জেলায়।

                                     

1. ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম মাগুরা। ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ আমলে বাংলা প্রদেশের প্রথম গঠিত জেলা যশোর। কিন্তু একজন জেলা কর্মকর্তার পক্ষে এ বৃহৎ জেলার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মুলত মগ জলদস্যুদের হাত থেকে এ জেলার উত্তরাঞ্চলের জন সাধারণকে রক্ষা করার জন্যই ১৮৪৫ সালে যশোর জেলার প্রথম মহকুমা করা হয় মাগুরাকে। মহকুমা গঠন করাপর প্রথম মহকুমা অফিসার হিসেবে আসেন মিঃ ককবার্গ। মহকুমা হবার আগে মাগুরা অঞ্চল ভূষণা ও মহম্মদপুর নামেই সুবিখ্যাত ছিল। পাল রাজত্বের সময় এ অঞ্চলের উত্তর ও উত্তর পূর্ব অংশ শ্রীপুর ও রাজাপুর নামে পরিচিত ছিলো। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব অংশ ভূষনা। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হবাপর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসাবে মাগুরাকে ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত করা হয়। প্রথম ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি অরবিন্দু করকে। মাগুরা জেলা মোট ৪টি থানা নিয়ে গঠিত। যথা মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা, ও মহম্মদপুর যা ২টি সংসদীয় যথা মাগুরা-১ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ও মাগুরা-২ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত।

                                     

2. বিখ্যাত বিদ্যালয়সমূহ

প্রাথমিক বিদ্যালয়

এ জেলায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে নামকরা। এগুলো হলো:-

  • নহাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • মাগুরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • নাকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • মহম্মদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • নহাটা বারইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • ঘোড়ানাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • মাগুরা পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় সরকারি
  • শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • বেজড়া-নারান্দীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

উচ্চ/মাধ্যমিক বিদ্যালয়

  • হাজিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • মাগুরা আল-আমিন একাডেমি বেসরকারি
  • শত্রজিতপুর কালিপ্রসন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • মাগুরা পুলিশ লাইন‌ উচ্চ বিদ্যালয়
  • মাগুরা আব্দুল গনি একাডেমি বেসরকারি
  • মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • পুলুম গোলাম ছরোয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • মাগুরা দুধমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি
  • নহাটা রাণী পতিত পাবনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • নহাটা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল
  • কালেক্টর কলেজিয়েট স্কুল এমপিওভুক্ত
                                     

3. নামকরণ

মাগুরার নামকরণ করা হয় মুঘল যুগে। এর নামকরণ কিভাবে হয়েছে তা স্থিরভাবে বলা দুস্কর। কিংবদন্তী থেকে জানা যায় এক কালে সুন্দরবনের কাছাকাছি এই অঞ্চলে মগ জল দস্যুদের দারুণ উৎপাত ছিল। কুমার নদী ও নবগঙ্গার তীরে অবস্থিত বর্তমান মাগুরা শহরে ছিল তাদের আখড়া। নদী পথে তারা বর্গীদের মতো দস্যুপনা করতো। তাদের নামেই মগরা থেকে মাগুরা হয়েছে। নেত্রকোণাতে ও দেখা যায় সেখানে মগরা নামে একটি নদী ও রয়েছে। বাংলাদেশে মাগুরা নামে আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে, তবে জেলার মর্যাদায় উন্নীত হওয়ায় মাগুরা এখন শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তবে কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে মুঘল নবাব মুর্শিদকুলী খার আমলে মগদের অগ্রযাত্রাকে যেখানে প্রতিহত করে ঘুরিয়ে দেওয়া হত সেই স্থানটির নাম রাখা হত মগ-ঘুরা। মগ-ঘুরাই পরবর্তীতে মাগুরা হয়েছে। মাগুরা তথা যশোর- ফরিদপুর এলাকায় মগ- দস্যুদের অত্যাচার ও লুষ্ঠনের কাহিনী আজও ইতিহাসের এক বেদনাময় অধ্যায়। "ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে" প্রচলিত এই ছড়াটিও সে সময়ের প্রকৃত চিত্রই তুলে ধরেছে। মুহম্মদপুরের রাজা সীতারাম রায় ও যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য মগ-বর্গী দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। বলা চলে দস্যুদের এই দুই রাজাই প্রতিহত ও পরাজিত করেন। বহু মগ বর্গী সীতারামের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং সেনাবাহিনী ও রাজ কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পান। আজকের মাগুরা শহরে তাদের নিবাসের ব্যবস্থাও করা হয়।

১৮৫৬-৬০ সালের হাজরাপুরে নীলকুঠিকে কেন্দ্র করে নীল অভ্যুত্থান হয়। বরই, আমতলা নাহাটি ব্যপক নীল চাষের নিদর্শন। মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণ প্রায় ১৬টি ফ্রন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করেছিল। এসব যুদ্ধ মোকাবেলা করতে গিয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। লুৎফুন্নাহার হেলেনার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও পরবর্তীতে তার করুণ মৃত্যু জনগণ গর্বভরে স্মরণ করে।

বাবুখালী ঘোড়দৌড় মেলা

মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালীতে ১৬ই মাঘ ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে।আনুমানিক ১৮৯৮ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে আসছে।এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ৩ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন হয়ে থাকে।এখানে জারিগান, সারিগানসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।



                                     

4. ভৌগোলিক সীমানা

১০৪৮ বর্গ কিমি ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট মাগুরা জেলা উত্তরে রাজবাড়ী জেলা, দক্ষিণে যশোর ও নড়াইল জেলা, পূর্বে ফরিদপুর জেলা এবং পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা দ্বারা বেষ্টিত।

                                     

5. ঐতিহ্যবাহী বাবুখালী ঘোড়দৌড় মেলা

মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালীতে ১৬ই মাঘ ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে।আনুমানিক ১৮৯৮ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে আসছে।এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ৩ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন হয়ে থাকে।এখানে জারিগান, সারিগানসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

                                     

6. পত্রিকা ও সাময়িকী

  • দৈনিক মাগুরা ২০১৫ বিলুপ্ত
  • নবগঙ্গা ১৯৪১
  • সাপ্তাহিক অঙ্গীকার বিলুপ্ত
  • সাপ্তাহিক রূপসী বাংলা ১৯৭২ বিলুপ্ত
  • দৈনিক খেদমত চলমান
  • পাক্ষিক নবকাল ১৯৭২ বিলুপ্ত
  • সাপ্তাহিক গণসংবাদ বিলুপ্তএবং
  • মাগুরা বৃত্তান্ত সাপ্তাহিক বিলুপ্ত
  • মাগুরা নিউজচলমান
  • হিন্দু মুসলমান সম্মিলনী পত্রিকা-১৮৭৬
  • সাপ্তাহিক বাংলার ডাক ১৯৭২ বিলুপ্ত
  • মাগুরা বার্তা চলমান
  • গ্রামীণ বাংলা বিলুপ্ত
  • সাপ্তাহিক মাগুরা বার্তা ১৯৮৫ বিলুপ্ত
  • সাপ্তাহিক আনন্দ ১৯২৯
                                     

7. নদ-নদী

জেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে গড়াই নদী, নবগঙ্গা নদী, ফটকি নদী, হানু নদী

, আলমখালি নদী, মধুমতি নদী, মুচিখালি নদী, মরাকুমার নদ, কুমার নদ, চিত্রা নদী, ভৈরব নদী, সিরাজপুর হাওর নদী, বেগবতী নদী।

                                     

8. চিত্তাকর্ষক স্থান

  • পীর তোয়াজউদ্দিন -এর মাজার ও দরবার শরীফ
  • চন্ডীদাস ও রজকিনীর ঐতিহাসিক ঘাট
  • কবি কাজী কাদের নেওয়াজ এর বাড়ী
  • বড়াল রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ
  • মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নঃ মাগুরা পিটিআই চত্ত্বরে গণকবর, ওয়াবদাপাড়া খাল, বিনোদপুর বাজার, গলাকাটা সেতু ছাইঘারিয়া। ছাইঘারিয়া স্মৃতি সৌধ পিটিআই প্রধান ফাটক মাগুরা বিশ্বরোড সংলগ্ন।
  • শ্রীপুর জমিদার বাড়ি
  • গড়াই সেতু
  • সিদ্ধেশ্বরী মঠ
  • রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ-দুর্গ -এর রাজবাড়ী
  • তালখড়ি জমিদার বাড়ি
  • কাদিরপাড়া জমিদার বাড়ি
  • বিড়াট রাজার বাড়ী
  • ছান্দড়া জমিদার বাড়ি
  • পীর হযরত গরীব শাহ রা এর মাজার শরীফ, নোহাটা, সব্দালপুর, শ্রীপুর
  • কবি ফররুখ আহমদ এর বাসস্থান
                                     

9. বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

  • এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান এমপি
  • চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার
  • অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান
  • গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড প্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান ফয়সাল
  • বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান
  • কবি ফররুখ আহমদ
  • আব্দুর রশিদ বিশ্বাস এমপি
  • কবি কাজী কাদের নেওয়াজ
  • সাহিত্যিক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  • মেজর জেনারেল অবঃ এ টি এম ‍আব্দুল ওয়াহাব এমপি,সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ
  • সৈয়দ আতর আলী এমপিএ
  • নিতাই রায় চৌধুরী এমপি
  • মোহাম্মদ গোলাম ইয়াকুববীর প্রতীক,বীর মুক্তিযোদ্ধা
  • মেজর জেনারেল অবঃ মজিদ-উল-হকএমপি,সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ
  • কাজী সালিমুল হক কামাল এমপি
  • এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন,এমএনএ,ক্যাবিনেট মন্ত্রী।
  • সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য
  • প্রফেসর ডাক্তার মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর এমপি
  • সঙ্গিতঙ্গ মুন্সী রইসউদ্দিন
  • এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি
  • শ্রী বিরেন শিকদার এমপি, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
  • আহমেদ হোসেন, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ
  • এস কে জাওয়াদ আহমেদ, বিশিষ্ট চিন্তাবীদ ও গবেষক
  • শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন
  • কবি মোহাম্মদ গোলাম হোসেন
  • বিশিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষা অনুরাগী এম এ গফুর
  • শ্যুটার শারমিন রত্না
  • অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় বাকু কাজী
  • মোস্তফা শাকিল
  • মুরসালিন মাহাবুব ডেপুটি অফিস সেক্রেটারি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল হিউম্যান রাইটস
  • কবিরাজ ও সংস্কৃত পণ্ডিত গঙ্গাধর সেন রায়
  • বনানী চৌধুরী
  • মিয়া আকবর হোসেন
  • দিদার ইসলাম
  • আবু সালেহ
  • গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড প্রাপ্ত আব্দুল হালিম
  • অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ আলী আশরাফ