Back

ⓘ মাদারীপুর জেলা




মাদারীপুর জেলা
                                     

ⓘ মাদারীপুর জেলা

মাদারীপুর জেলা ২৩° ০০ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩° ৩০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯° ৫৬ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯০° ২১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই জেলার উত্তরে ফরিদপুর জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা, পূর্বে শরীয়তপুর জেলা, পশ্চিমে ফরিদপুর জেলা ও গোপালগঞ্জ জেলা এবং দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা ও বরিশাল জেলা। এই জেলার মোট আয়তন প্রায় ১১২৫.৬৯ বর্গ কিলোমিটার।

                                     

1. নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা

পঞ্চদশ শতাব্দীর সুফি সাধক কুতুব-ই-জাহান হযরত বদিউদ্দীন আহমেদ জিন্দা শাহ মাদার রঃ এর নাম অনুসারে মাদারীপুর জেলার নামকরণ করা হয়। শাহ মাদার ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সিরিয়া হতে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকালে ১৩৫১-১৩৮৮খ্রি: ভারতে পরে বঙ্গের নানা স্থানে ভ্রমণ করেন। মাদার্শা, মাদারবাড়ী, মাদারি খাল, মাদারীপুর, মাদারঠেক, শামান্দারের ঘাট তার শুভাগমনের স্থানীয় স্মৃতি রক্ষা করছে। ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পরে যে সকল সুফী সাধারন্যে অসাধারন প্রভাব বিস্তার করেন তাদের মধ্যে শাহ মাদার অন্যতম। চতুর্দশ শতাব্দীর কোনো এক সময়ে বঙ্গের বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের এক পর্যায়ে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপের উত্তর সীমান্তে গভীর অরন্যের যে স্থানটিতে তিনি ক্ষণিকের অতিথি হয়ে সহযাত্রীদের নিয়ে যাত্রা বিরতি বা বিশ্রাম গ্রহণ করেছিলেন সে স্থানটিতে তার নামানুসারে হযরত শাহ মাদার র. এর দরগাহ শরীফ নামকরণ করে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মীত হয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিক্রমপুরের জমিদার ভূমিহীন প্রজাদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে চন্দ্রদ্বীপের স্মৃতিবিজড়িত ঐ স্থানটিকে কেন্দ্র করে সরকার মাদারণ বা মাদারণ অঞ্চল নামে আখ্যায়িত করে ফসলি জমি ও আবাসন গড়ে তুলেন। যা পরবর্তীতে নগরায়নে রুপ নিতে থাকে, নাম হয় মাদারণ গ্রাম-উনিয়ন। পর্যায়ক্রমে নগর সভ্যতার বিবর্তনের ফলে মাদারণ নাম থেকে ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর থানা-সাব ডিভিশন, ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর পৌরসভা এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদারীপুর জেলা।

                                     

2. ইতিহাস

অতি প্রাচীনকালে মাদারীপুরের পূর্বাংশ ইদিলপুর এবং পশ্চিম অংশ কোটালীপাড়া নামে পরিচিত ছিল। ইদিলপুর চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের একটি উন্নত জনপদ ছিল। একসময় এ অঞ্চলের প্রশাসনিক নাম ছিল নাব্যমন্ডল। কোটালীপাড়া ছিল বাংলার সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে ইদিলপুর ও কোটালীপাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। নন্দবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহাপদ্মনন্দ আদতে ছিলেন গঙ্গারিডিদের রাজা, সেখান থেকেই পাটলিপুত্রে গিয়ে সাম্রাজ্যস্থাপন করেছিলেন, এমনটা মনে করেন অনেক ঐতিহাসিক। গঙ্গারিডি আর প্রাচ্য রাষ্ট্র ছিল Agrammes/Xandrames বা ঔগ্রসৈন্য উগ্রসেনের পুত্র নামক রাজার অধীনে। গ্রিকবীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বে কোটালীপাড়া অঞ্চলে গঙ্গারিডাই জাতি স্বাধীনভাবে রাজত্ব করত। তারপর এ অঞ্চল ৩২০-৪৯৬ খ্রিঃ গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে ছিল। ৫০৭-৮ খ্রীষ্টাব্দের কিছু আগে রাজত্ব করেছেন দ্বাদশাদিত্য - মহারাজাধিরাজ বৈন্যগুপ্ত নামক এক রাজা। কোটালীপাড়া অঞ্চলের পাঁচটি আর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে প্রাপ্ত একটি, সর্বমোট ছয়খানা পট্টোলীতে তিনজন মহারাজাধিরাজের তথ্য পাওয়া যায়। গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য এবং নরেন্দ্রাদিত্য সমাচারদেব। এরা ৫৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করছেন। বাংলার স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের মৃত্যুপর একশত বছর৬৫০-৭৫০ খ্রিঃ বাংলার ইতিহাস ‘‘মাৎস্যন্যায়’’ নামে খ্যাত, তবে ঐ সময়ে খড়গ বংশ ও দেব রাজবংশ এ অঞ্চল শাসন করে। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপালকে রাজা নির্বাচিত করা হয়। পাল বংশ ৭৫০-১১৬২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করে, তবে রাজা দ্বিতীয় বিগ্রহপালের রাজত্বকালে ৯৬৯–৯৯৫ খ্রিঃ পাল সাম্রাজ্য গৌড়, রাঢ়, অঙ্গ ও বঙ্গ প্রভৃতি ছোটো ছোটো রাজ্য বিভাজিত হয়ে যায়। হরিকেলের পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা কান্তিদেব ‘মহারাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং এবং একটি পৃথক রাজ্য স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে চন্দ্র রাজবংশ এই রাজ্যটি শাসন করেছিল।

চন্দ্রবংশ দশম ও এগার শতকে স্বাধীনভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ রাজত্ব করে। চন্দ্র বংশের শ্রীচন্দ্রের তাম্রশাসন রামপাল ইদিলপুর ও কেদারপুরে পাওয়া যায়। মাদারীপুর-শরীয়তপুর চন্দ্ররাজার অধীনে ছিল। সেন রাজবংশ ১০৯৮ হতে ১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ব বাংলা শাসন করে। কোটালীপাড়া ও মদনপাড়ায় বিশ্বরূপ সেন এবং ইদিলপুরে কেশব সেনের তাম্রলিপি পাওয়া যায়। সেন রাজাদের পতনেপর চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলা চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অধীনে ছিল।

চতুর্দশ শতকে ফরিদপুর সুলতানদের শাসনাধীনে চলে যায়। যদিও ১২০৩ থেকে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সুলতানগণ বাংলা শাসন করে, তবে পূর্ববঙ্গে সেন রাজত্ব চলে। সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহ ১৪৮১-১৪৮৫ খ্রিঃ ফরিদপুর ও চন্দ্রদ্বীপের একাংশ দখল করে ফতেহাবাদ পরগনা গঠন করেন। ফরিদপুর মাদারীপুরের প্রথম ঐতিহাসিক নাম ফতেহাবাদ। সুলতান হুসেন শাহ ১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিঃ ফতেহাবাদের জনপ্রিয় শাসক ছিল। ১৫৩৮ হতে ১৫৬৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শেরশাহ ও তার বংশধরগণ বাংলা শাসন করেন। ১৫৬৪ সাল হতে ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কররানি বংশ বাংলার রাজত্ব করে তারপর ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বারোভূঁইয়ার অধীনে ছিল বাংলা। বারোভূঁইয়াদের অন্যতম ছিল বিক্রমপুরের চাঁদ রায়, কেদার রায় এবং বাকলার কন্দর্প রায়, রামচন্দ্র রায়। মুঘল সাম্রাজ্য ও নবাবী শাসন চলে ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। তারপর বাংলা ব্রিটিশদের দখলে চলে যায়।

১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহর পতনের মধ্যদিয়ে এদেশে ব্রিটিশ শাসনের সূত্রপাত ঘটে। মূলত ১৭৬৫ থেকে ১৯৪৭ খ্রিঃ পর্যন্ত প্রায় দু’শ বছর ব্রিটিশরা বাংলা শাসন করে। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাদারীপুর স্থানীয় নাম ছিল। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা ও থানা সৃষ্টি হলে "মাদারীপুর" নাম প্রশাসনিক স্বীকৃতি লাভ করে। তখন এ মহকুমা ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সৃষ্ট বাকেরগঞ্জ জেলাধীন ছিল এবং বর্তমান মাদারীপুর জেলা, শরিয়তপুর জেলা, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ও কোটালীপাড়া উপজেলা বিস্তৃত অঞ্চল মাদারীপুর মহকুমা গঠিত হয়েছিল। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি হলে মাদারীপুর মহকুমাকে বাকেরগঞ্জ জেলা থকে আলাদা করে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মাদারীপুর মিউনিসিপ্যাল কমিটি স্থাপিত হয়। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া থানা মাদারীপুর থেকে আলাদা করে গোপালগঞ্জ মহকুমা গঠন করা হয়। ব্রিটিশ আমলে মাদারীপুর অনেক আন্দোলন সংগ্রামের তীর্থভূমি ছিল। বিখ্যাত ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ’র ১৭৮১-১৮৪০ জন্ম মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুরে। তিনি ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ধর্মীয় কুসংস্কার, নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুপর তারই সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া ১৮১৯-১৯৬২ ফরায়েজি আন্দোনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

ব্রিটিশ আমলে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদারীপুরের বিপ্লবীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। এ জেলার কৃতী সন্তান পূর্ণচন্দ্র দাস ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী গুপ্ত সংগঠন মাদারীপুর সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। সমিতির অন্যতম সদস্য চিত্তপ্রিয় রায় চৌধুরী ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে বালেশ্বর যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মৃত্যুবরণ করেন এবং বালেশ্বর যুদ্ধে নীরেন্দ্র নাথ দাশগুপ্ত ও মনোরঞ্চন সেনগুপ্ত বন্দী হন। বালেশ্বর জেলে তাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯৩৬খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবুর রহমান মাদারীপুর আবস্থানকালে পূর্ণ দাসের সভায় নিয়োমিত যাতায়াত করতেন এবং সেখান থেকেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়; ইংরেজদের এদেশে থাকার অধিকার নেই, স্বাধীনতা আনতে হবে।‌ এ জেলার অগ্নিপুরুষ অম্বিকাচরণ মজুমদার নিখিল ভারত কংগ্রেস-এর সভাপতি ছিলেন। তিনি আধুনিক ফরিদপুরের রূপকারও বটে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা বিভক্ত হয়ে পূর্ববাংলা নামে পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে মাদারীপুরের কৃতী সমত্মানরা বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে। ১৭ এপ্রিল মাদারীপুরের প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন ছাত্র-যুবককে সঙ্গে নিয়ে স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। ভারতে যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে যায় তাদের মধ্যে মাদারীপুরের যুবকরা সর্বাগ্রে গমন করেন। ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুরে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে মুক্ত হয়। সম্ভবত বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ শুধুমাত্র মাদারীপুরেই হয়েছে। তবে হানাদারমুক্ত হবার আগ মুহুর্তে শত্রুর বাংকারে গ্রেনেড হামলা করতে গিয়ে পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ১৪ বছর বয়সী সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। ১৬ ডিসেম্বর অন্যান্য জায়গায় পাকিবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে মিত্রবাহিনীর হাতে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভেপর ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

                                     

3. প্রশাসন

মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক DC হিসাবে নিযুক্ত আছেন ড.রহিমা খাতুন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ।জনাব মুনির চৌধুরী

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

মাদারীপুর জেলায় ৩ টি সংসদীয় আসন, ৪ টি উপজেলা, ৫ টি থানা, ৪ টি পৌরসভা, ৫৯ টি ইউনিয়ন, ১০৬২ টি গ্রাম, ৪৭৯ টি মৌজা রয়েছে।

পৌরসভাসমূহ

  • কালকিনি পৌরসভা
  • মাদারীপুর পৌরসভা
  • শিবচর পৌরসভা
  • রাজৈর পৌরসভা

ইউনিয়নসমূহ

শিরখাড়া, বাহাদুরপুর, কুনিয়া, পেয়ারপুর, ধুরাইল, রাস্তি, পাঁচখোলা, খোয়াজপুর, ঝাউদী, ঘটমাঝি, কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, কালিকাপুর, ছিলারচর, দুধখালী;

শিবচর, দ্বিতীয়খন্ড, নিলখী, বন্দরখোলা, চরজানাজাত, মাদবরেরচর, পাঁচচর, সন্যাসিরচর, কাঁঠালবাড়ী, কুতুবপুর, কাদিরপুর, ভান্ডারীকান্দি, বহেরাতলা দক্ষিণ, বহেরাতলা উত্তর, বাঁশকান্দি, উমেদপুর, ভদ্রাসন, শিরুয়াইল, দত্তপাড়া;

গোপালপুর, কাজীবাকাই, বালিগ্রাম, ডাসার, নবগ্রাম, আলীনগর, এনায়েতনগর, শিকারমঙ্গল, সাহেবরামপুর, রমজানপুর, কয়ারিয়া, বাশঁগাড়ী, লক্ষীপুর, চরদৌলতখান, পূর্ব এনায়েতনগর;

আমগ্রাম, বদরপাশা, বাজিতপুর, হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী, হোসেনপুর, ইশিবপুর, কবিরাজপুর, কদমবাড়ী, খালিয়া, পাইকপাড়া, রাজৈর।



                                     

4. জনসংখ্যা উপাত্ত

মাদারীপুর জেলার মোট জনসংখ্যাঃ ১২,১২,১৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫,৯৭,৩৭২ জন ও মহিলা ৬,১৪,৮২৬ জন। মাদারীপুর জেলায় ১০,২৩,৭০২ জন মুসলিম, ১,৪১,০৯৭ জন হিন্দু, ৩৬ জন বৌদ্ধ, ১,০৯১ জন খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মের প্রায় ২৬ জন লোক বাস করে।

মাদারীপুর জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.১৭%।

  • পুরুষঃ ৪৯.২৯%
  • মহিলাঃ ৫০.৭১%
                                     

5. শিক্ষা

মাদারীপুর জেলার শিক্ষার গড় হার ৪৮%। পুরুষদের মধ্যে এই হার ৫০.১১% এবং মহিলাদের মধ্যে ৪৫.৯৩%। মাদারীপুরে ৬৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮৯টি এনজিও স্কুল, ৭৬টি কিন্ডারগার্টেন, ১৬৪টি মাদ্রাসা, ১৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি সরকারিসহ, ২৩টি কলেজ ৫টি সরকারিসহ, ১টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ১ টি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, ১টি ভেটেরিনারি কলেজ, ১০টি ভোকেশনাল ও অন্যান্য কেন্দ্র।

                                     

5.1. শিক্ষা উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • খালিয়া রাজারাম ইনস্টিটিউিশন ১৯০০,
  • মিঠাপুর এল এন উচ্চ বিদ্যালয় ১৯১৫,
  • মাদারীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ১৯৮১,
  • ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫০,
  • কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ ১৯৭২,
  • মাদারীপুর সরকারি কলেজ ১৯৪৮,
  • শিবচর নন্দকুমার ইনস্টিটিউশন ১৯১০,
  • আলহাজ্ব আমিনউদ্দিন হাই স্কুল ১৯৭০,
  • চরমুগুরিয়া কলেজ ১৯৭৮,
  • সরকারি বরহামগঞ্জ কলেজ ১৯৬৪,
  • রাজৈর ডিগ্রি কলেজ ১৯৭০,
  • সরকারি সুফিয়া মহিলা কলেজ ১৯৮৪,
  • ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ ১৯৯৯,
  • বাহাদুরপুর শরিয়াতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯৪০,
  • শশিকর শহীদ স্মৃতি কলেজ ১৯৭৩,
  • সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজ ১৯৭২,
  • কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয় ১৯০৪,
  • ঘটকচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৩,
  • রাজকুমার এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউিশন ১৯০২,
  • চরমুগুরিয়া মার্চেন্টস হাই স্কুল ১৯৩১,
  • ডনোভান সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১৯১৪,
  • মাদারীপুর আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা ১৯৪৯,
  • সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ ১৯৮৯,
  • সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজ ১৯৯৫,
  • মহিষমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯১৮,
  • চরনাচনা ফাজিল মাদ্রাসা ১৯১২।
  • মাদারীপুর পাবলিক ইনস্টিটিউশন ১৯৫৩,


                                     

6. আবহাওয়া ও জলবায়ু

মাদারীপুরের জলবায়ু আর্দ্র ও উষ্ণভাবাপন্ন। জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট। মাদারীপুরের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৫ ৮° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ৬° সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড়ে ২,১০৫ মিলিমিটার।

                                     

7. নদীসমূহ

মাদারীপুর জেলায় প্রায় ১০টি নদী আছে। সেগুলো হচ্ছে -

  • পদ্মা,
  • আড়িয়াল খাঁ নদী,
  • পালরদী নদী,
  • ময়নাকাটা নদী।
  • টর্কি নদী,
  • মাদারীপুর নদী এবং
  • পালং নদী,
  • বিশারকন্দা-বাগদা নদী,
  • কুমার আপার নদী,
  • কুমার লোয়ার নদী,
                                     

8. লোকসংস্কৃতি

এ জেলায় ত্রিনাথের মেলা, সংক্রান্তি মেলা, রথ মেলা, গণেশ পাগলের কুম্ভ মেলা প্রভৃতির প্রচলন রয়েছে।

লোকসংগীত

মাদারীপুরে মূলত গাজীর গান, কীর্তন, পাঁচালি, ধুয়াগান, বাউল গান, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, ছিলকা, হেয়ালি, ধাঁধা, জারিগান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিচিত। এছাড়া জেলার মতুয়া সম্প্রদায় রাজৈর দুর্গাপূজায় মতুয়া সঙ্গীতের আয়োজন করে।

                                     

9. গণমাধ্যম

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী

  • সাহিত্য পত্রিকা: কথন, বোধীবৃক্ষ, অংশু, সন্দীপন, কিশলয়, বৈশাখী, ঊষা, ক্যানভাস, বর্ণমালা, নবপ্রভাত;
  • মাসিক: যুগচেতনা ১৯৯১, পোস্টার ১৯৯১, শান্তি সাময়িকী ১৯৯২, জাবল-ই-নূর ২০০৫;
  • দৈনিক: সুবর্ণগ্রাম ১৯৯৮, প্রান্ত ২০০১, মাদারীপুর নিউজ ২০০৬, বিশ্লেষণ ২০০৯;
  • অবলুপ্ত: দৈনিক দিগন্ত ১৯৬০, সাপ্তাহিক জননী বাংলা ১৯৭২, সাপ্তাহিক মাদারীপুর বার্তা ১৯৮৬, সাপ্তাহিক আড়িয়াল খাঁ ১৯৮৯, পাক্ষিক বালারঞ্জিকা ১৮৬৩।
  • সাপ্তাহিক: সুপ্রভাত ১৯৯১, শাহ মাদার ১৯৯৩, শরীয়তউল্লাহ ১৯৯৬, আজকাল ১৯৯৯, গণসচেতনতা ২০০৬, সুবার্তা ২০০৭;
                                     

10. ক্রীড়াঙ্গন

মাদারীপুরে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা বেশি জনপ্রিয়। এছাড়াও ব্যাডমিন্টন, এ্যাথলেটিকস্, ভলিবল, সাঁতার, কাবাডি স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এ অঞ্চলে প্রচলিত এবং স্বাধীনতাত্তর টেনিস ও হ্যান্ডবল খেলা প্রচলন হয়েছে। বিভিন্ন খেলার আয়োজনের জন্য শহরে একটি স্টেডিয়াম আছে যা মাদারীপুর স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। আঞ্চলিকভাবে হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট, বউ ছি, লুকোচুরি খেলা হয়। বাংলাদেশের টেনিস কন্যা নামে খ্যাত "বৈশাখী" জাতীয় টেনিস প্রতিযোগিতায় একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মহিলা হ্যান্ডবলে কয়েকবার আঞ্চলিক ও বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনকরে মাদারীপুর জেলা। মাদারীপুরের সন্তান সিদ্দিকুর রহমান ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত দূরপাল্লার সাঁতারে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এর আগে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এই সাঁতারু জাতীয় যুব সাঁতারে ৪টি জাতীয় নতুন রেকর্ডসহ মোট ৭ টি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

                                     

11. অর্থনীতি

জনগোষ্ঠীর মোট আয়ের ৬১.৩৩% আসে কৃষিখাত থেকে। মাদারীপুর জেলার মোট আয়ের ২.৫৯% ও ০.৮৪% আসে যথাক্রমে অকৃষি শ্রমিক ও শিল্পখাত থেকে।কৃষি ও শিল্প ছাড়াও অন্যান্য খাতের আয়- ব্যবসা ১৫.৪৬%, পরিবহন ও যোগাযোগ ২.২৭%, নির্মাণ ১.৭১%, ধর্মীয় সেবা ০.২%, চাকরি ৭.২৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৮৭% এবং অন্যান্য ৭.৪৮%।

                                     

12. শিল্প ও বাণিজ্য

এ জেলায় শিল্প ও কলকারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি। যে কয়টি শিল্প ও কলকারখানা রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১ মাদারীপুর স্পীনিং মিলস, ২ আলহাজ্জ আমিনউদ্দিন জুট মিলস, ৩ চরমুগরিয়া জুট মিলস, ৪ এ.আর. হাওলাদার জুট মিলস পরিত্যাক্ত। এগুলোর মধ্যে শিল্পখাতে মাদারীপুর স্পিনিং মিলস এর অবদান সবচেয়ে বেশি। এ মিলটি ১৯৮৬ সালে ২৯.১৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর জনবল ২০০০ জন। এ মিলে বার্ষিক ৫০০০ মে. টন সূতা উৎপাদিত হয় যার আর্থিক মূল্য ৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া এ জেলায় ৬০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কোল্ড স্টোরেজ সহ বেশ কিছু সংখ্যক কাপড়ের কল, ধানকল, তেলকল, বরফকল, বিস্কুট ফ্যাক্টরি ও করাতকল রয়েছে। এছাড়া এ জেলায় একটি ক্ষুদ্র শিল্পনগরী এবং ছোটবড় মিলিয়ে ১১৩টি হাট বাজার রয়েছে।

                                     

13. চিত্তাকর্ষক স্থান

  • আলগী কাজি বাড়ি মসজিদ - বাহাদুরপুর,
  • পর্বতের বাগান- মস্তফাপুর,
  • সূফী আমীর শাহ রঃ এর মাজার শরীফ,
  • মাদারীপুর শকুনি দীঘি,
  • শাহ মাদার রঃ দরগাহ শরীফ,
  • সেনাপতি দিঘি - আমড়াতলা ও খাতিয়াল।
  • নারায়ণ মন্দির - পানিছত্র,
  • রাজারাম মন্দির - খালিয়া,
  • মঠের বাজার মঠ - খোয়াজপুর,
  • আউলিয়াপুর নীলকুঠি - ছিলারচর,
  • প্রণব মঠ- বাজিতপুর,
  • চরমুগরিয়া প্রাচীন বন্দর ও বানরের অভয়ারন্য
  • ঝাউদি গিড়ি - ঝাউদি,
  • কুলপদ্মী জমিদার বাড়ি,
  • মিঠাপুর জমিদার বাড়ি - দুধখালী,
  • খালিয়া জমিদার বাড়ি - খালিয়া,
                                     

14. যোগাযোগ ব্যবস্থা

মাদারীপুর রাজধানী ঢাকা থেকে ৮৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার সাথে সড়ক ও নৌপথে মাদারীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো।‌

এন৮ মাদারীপুরের মহাসড়ক ও আর৮৬০ আঞ্চলিক মহাসড়ক কোড।

                                     

15. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী ৩৩৬৬টি মসজিদ এবং ৩৩০টি মন্দির, ৭টি গির্জা ও ৩টি মাজার রয়েছে।

যদিও বা মাদারীপুরে ইসলাম মতাদর্শী বেশি তবুও মাদারীপুরে সকল ধর্মালম্বীরা অসাম্প্রদায়িক একটি পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।

                                     

16. উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন ১৯৮১- - চিত্রনাট্য লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক;
  • রশীদ তালুকদার, ১৯৩৯-২০১১খ্রি. - বিজ্ঞান জাদুঘর ১৯৭৮ ও বিপিএস ১৯৮২ স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ফটো সাংবাদিক;
  • দ্বারকানাথ বারুরী ১৯০৬ -৮৫খ্রি. - যুক্ত বঙ্গের ও পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রী, পাকিস্তান কন্সটিটিউশন কমিশনের সদস্য১৯৬০;
  • অমলেন্দু দে ১৯২৯-২০১৪খ্রি. - ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক ও লেখক; অন্নদাশঙ্কর পুরস্কার ২০০৮ প্রাপ্ত;
  • প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান খান১৯৩৫- - রাষ্ট্রবিজ্ঞান গবেষক ও লেখক;
  • রাজা রাম রায়চৌধুরী ১৬ শতাব্দী - রাজৈরের খালিয়া অঞ্চলের জমিদার;
  • গোষ্ঠ পাল ১৮৯৬-১৯৭৫খ্রি. - ফুটবলার, ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী উপাধিতে ১৯৬২ ভূষিত হন;
  • আলাওল ১৫৯৭-১৬৭৩খ্রি. - মহাকবি;
  • ডাঃ গোলাম মওলা ১৯২০ -৬৭খ্রি. - ভাষা সৈনিক, এমএলএ, এমএনএ একুশে পদক২০১০ প্রাপ্ত; বিশিষ্ট চিকিৎসক;
  • নূর-ই-আলম চৌধুরী ১৯৬৪- - রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক; এমপি; ১১দশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ;
  • আবা খালেদ রশীদ উদ্দিন ১৮৮৪-১৯৫৬খ্রি. - বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ;
  • মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ ১৯৬০- - এডমিরাল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ২০১৫-২০১৯;
  • প্রফেসর গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরী ১৯২৬-৯৭খ্রি. - রাষ্ট্রবিজ্ঞান গবেষক ও সমাজসেবী; পাকিস্তান কন্সটিটিউশন কমিশনের অনারারি উপদেষ্টা১৯৬১ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপ্রাক্তন;
  • মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ১৯৩৭− - অধ্যাপক ও গবেষক; স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার২০১৭ প্রাপ্ত;
  • নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ১৮৯৫-১৯১৫খ্রি. - মাদারিপুর সমিতি ও যুগান্তর বিপ্লবী, বালেশ্বর কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে শহীদ;
  • সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫০- - রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক; প্রাক্তন এমপি ও মন্ত্রী;
  • ইস্কান্দার আলী খান ১৯০১-৮৩খ্রি. - বিশিষ্ট আইনজীবি ও রাজনীতিবিদ; এমএলএ;
  • পূর্ণচন্দ্র দাস ১৮৯৯-১৯৫৬খ্রি. - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী;
  • ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ১৯৩৪-৯১খ্রি. সংসদ সদস্য সাবেক ফরিদপুর-১৩ বর্তমান মাদারীপুর-১১৯৯১, পূর্ব পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ১৯৭০-১৯৭১
  • মৌলভী আচমত আলী খান ১৯০৭-৯৩খ্রি. - এমপিএ, এমপি; বঙ্গীয় গভর্নর মেডেল১৯৪৩ প্রাপ্ত; মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার২০১৬ প্রাপ্ত;
  • খান বাহাদুর আবদুর রহমান খাঁ ১৮৯০-১৯৬৪খ্রি. - শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক; যুক্ত বঙ্গের এডিপিআই১৯৩৯-৪৫, জগন্নাথ কলেজ এর প্রিন্সিপাল১৯৪৮-৫৬ ও রেক্টর১৯৫৬;
  • সিদ্দিকুর রহমান ১৯৮৪- - গল্‌ফার; প্রথম বাংলাদেশী এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জয়ী ১৯১০;
  • অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১-১৯২২খ্রি. - বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী; ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি ১৯১৬;
  • মৌলোবী আব্দুল জব্বার ফরিদপুরী ১৮০১-১৮৭৬খ্রি. - বিশিষ্ট উর্দু কবি ও লেখক;
  • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪-২০১২খ্রি. - প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক;
  • মাবিয়া আক্তার ১৯৯৯- - ভারোত্তলক; ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমস ও ২০১৯ দক্ষিণ এশীয় গেমস এ স্বর্ণপদক জয়ী।
  • গীতা দত্ত ১৯৩০-১৯৭২খ্রি. - সঙ্গীতশিল্পী; হিন্দি ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত ও বাংলা আধুনিক গায়িকা;
  • স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান ১৯৪০-৭২খ্রি. - আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার তিন৩ নম্বর আসামী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক;
  • আজিজুর রহমান আজিজ ১৯৪৪ - - কবি, সাহিত্যিক, উপন্যাসিক, সুরকার, এবং গীতিকার; বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান;
  • কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৪১-২০০৭খ্রি. - চিত্রশিল্পী; শিল্পকলায় একুশে পদক ২০১৬ প্রাপ্ত;
  • বাসুদেব দাশগুপ্ত ১৯৩৮-২০০৫খ্রি. - হাংরি আন্দোলন এর বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক;
  • যোগেশচন্দ্র ঘোষ ১৮৮৭-১৯৭১ - আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ এবং শিক্ষাবিদ; সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা;
  • সূফী আমির শাহ মৃত্যুঃ ১৯৪৪খ্রি. - প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক;
  • মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত ১৮৯৮-১৯১৫খ্রি. - মাদারিপুর সমিতি ও যুগান্তর বিপ্লবী, বালেশ্বর কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে শহীদ;
  • ডাঃ জোহরা বেগম কাজী ১৯১২-২০০৭খ্রি. - ভারতীয় উপমহাদেশ এর প্রথম মহিলা চিকিৎসক;
  • আভা আলম ১৯৪৭-৭৬খ্রি. - সঙ্গীত শিল্পী; মরনোত্তর একুশে পদক১৯৭৮ স্বর্ণপদক প্রাপ্ত;
  • ফনী ভূষণ মজুমদার ১৯০১-৮১খ্রি. - এমএলএ, এমপিএ, মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, মন্ত্রী;
  • স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ ১৮৯৬-১৯৪১খ্রি. - স্বদেশী যুগের বিশিষ্ট বিপ্লবী ও বীর সাধক;
  • পদ্মা দেবী ১৯১৭-৮৩খ্রি. - ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্রাভিনেত্রী;
  • নকুল কুমার বিশ্বাস ১৯৬৫− − কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার;
  • ড. ফজলুর রহমান খান ১৯২৯-৮২খ্রি. - বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি; আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ারিং রেকর্ডের "ম্যান অব দ্যা ইয়ার"১৯৬৬,৬৯,৭১,৭২, মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার১৯৯৯ প্রাপ্ত;
  • বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় ১৯০৪-১৯৯৩খ্রি. - ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক; সাংবাদিকতায় পদ্মভূষণ পুরস্কার ১৯৭০ প্রাপ্ত;
  • আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম১৯৬১- - রাজনীতিবিদ ও কৃষিবিদ; প্রাক্তন এমপি;
  • রাজিয়া মাহবুব ১৯২৭-২০১৩খ্রি. - বিশিষ্ট সাহিত্যিক; ইউনেস্কো পুরস্কার ১৯৫৭ প্রাপ্ত; লন্ডনের "ইসাবেলা ইটন পুরস্কার" ১৯৬৭ প্রাপ্ত; বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৮১ প্রাপ্ত;
  • হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮০-১৮৪০খ্রি. - ধর্মীয় সংস্কারক ও ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা;
  • আবুল হোসেন মিয়া ১৯১৮-৯৮খ্রিঃ - কবি, শিশু সাহিত্যিক, শিক্ষক;
  • পীর মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া ১৮১৯-১৮৬২খ্রি. - ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা;
  • কেদার রায় মৃত্যু‌: ১৬০৩খ্রি. - বার ভুঁইয়ার অন্যতম ও বিক্রমপুর পরগনার জমিদার;
  • নারগিস আক্তার - চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক; জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০১, ২০১০ প্রাপ্ত;
  • মুন্সী মোজাহারুল হক ১৮৯৮-১৯৭৯খ্রি. - রাজনীতিবিদ ও মাদারীপুরের প্রথম লঞ্চ ব্যাবসায়ী;
  • চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী ১৮৯৪-১৯১৫খ্রি. - মাদারিপুর সমিতি ও যুগান্তর বিপ্লবী, বালেশ্বর রনাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ;
  • ড. কাজী গিয়াসউদ্দিন ১৯৪৯- - আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্র শিল্পী; জাপান কর্তৃক ‘অর্ডার অব দ্য রাইজিং সান’ ২০১৮ সম্মাননায় ভূষিত;
  • কিরণ চাঁদ দরবেশ ১৮৭৮-১৯৪৬খ্রি. - স্বদেশী যুগের রাজনৈতিক কর্মী, কবি, গীতিকার ও সাহিত্য সাধক;
  • ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ ১৯৩৮-৬৯খ্রি. - ভূ-তত্ত্ববিদ ও গবেষক;
  • এ. বি. এম. খায়রুল হক ১৯৪৪− - প্রখ্যাত আইনবিদ এবং ১৯ তম প্রধান বিচারপতি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০ - ১৭ মে ২০১১;
  • বাশার মাহমুদ ১৯৫২- - কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, গবেষক;
  • আব্দুল মান্নান শিকদার ১৯৩১- - ভাষা সৈনিক; প্রাক্তন এমপি ও প্রতিমন্ত্রী;
  • শাজাহান খান ১৯৫২- - রাজনীতিবিদ; এমপি; প্রাক্তন মন্ত্রী;
  • আলিমুদ্দিন আহম্মদ, খান সাহেব ১৮৯০-১৯৫৭খ্রি. - মোক্তার ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ;
  • অসীম সাহা ১৯৪৯- - কবি ও ঔপন্যাসিক; বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১২ প্রাপ্ত; একুশে পদক ২০১৯ প্রাপ্ত;
  • শাহ মাদার মৃত্যু: ১৪৩৪খ্রি. - প্রখ্যাত সূফী সাধক;
  • শাহরিয়ার জেড আর ইকবাল ১৯৪০-২০১৭খ্রি. - ইতিহাস গবেষক;
  • পুলিন বিহারী দাস ১৮৭৭-১৯৪৯খ্রি. - ব্রিটিশ বিরোধী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রধান ১৯০৭-১০;


                                     

17. বাড়তি পঠন

* আনন্দনাথ রায়ের ফরিদপুরের ইতিহাস সংগ্রহ ও সম্পাদনা: ড. তপন বাগচী, গতিধারা প্রকাশনী, ঢাকা, ২০০৭।

* আনম আবদুস সোবহান, বৃহত্তর ফরিদপুরের ইতিহাস, সূর্যমুখী প্রকাশনী, ফরিদপুর, ১৯৯৬।

* মু. মতিয়ার রহমান, অপ্রভ্রষ্ট অপভ্রংশ শামান্দার: মাদারীপুর জেলার ইতিকথা, গতিধারা প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১০।

* বাশার মাহমুদ, শাহমান্দারের ঘাট, গাংচীল প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১০।