Back

ⓘ ইসলামি অর্থনীতি




                                               

ইসলামের ষষ্ঠস্তম্ভ

ইসলামের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে যা ইসলামি অনুশীলনের প্রাথমিক ব্যবস্থা। এগুলো হলো ঈমান, নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্জ। জিহাদ কে কখনো কখনো ইসলামের ষষ্ঠস্তম্ভ হিসাবে ব্যখ্যায়িত করা হয়, যার অর্থ সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা। ইসলামি পরিভাষায়, জীবন, সম্পদ, জ্ঞান, আমল, লেখনী, বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ইসলামকে সমুন্নত করাই হলো জিহাদ । ইসলাম ধর্মে, জিহাদ হতে পারে ইসলামের মৌলিক নীতি প্রত্যাখ্যানকারীর বিরুদ্ধে ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম, একটি সুন্দর মুসলিম সমাজ তৈরির প্রচেষ্টা অথবা কাফিরদের অন্যায় ও ইসলাম বিদ্বেষী মতবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সুতরাং জিহাদ হলো ইসলাম রক্ষার লড়াই যা অবশ্যই অনু ...

                                               

ইসরাফিল

ইসরাফিল একজন ফেরেস্তা, যিনি কিয়ামত বা মহাপ্রলয় ঘোষণা করবেন। যদিও তার নাম কুরআন শরীফে নেই, কিন্তু হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের চারজন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফেরেশতার মধ্যে তিনি অন্যতম। ইসরাফিল আল্লাহর হুকুমে কিয়ামতের দিন ঘোষণা করার জন্য জেরুজালেমের একটি পবিত্র শিলা থেকে শিঙা বাজাবেন। তাঁকে সাধারণত যুডো-খ্রিস্টান প্রধান আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা রাফেলের সমকক্ষ ভাবা হয়।

                                               

ওয়ালাইকুম আসসালাম

ওয়া আলাইকুমুস সালাম একটি আরবী অভিবাদন, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা প্রায়শই "আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক" অর্থে ব্যবহার করে থাকে। এটি অন্যদের জন্য দোয়াস্বরূপ। এটি আসসালামু আলাইকুম অভিবাদনটির আদর্শ জবাব । কারো উপস্থিতির কৃতজ্ঞতা জানাতে বা কাউকে স্বাগত জানানোর জন্য অভিবাদনগুলি ব্যবহার করা হয়। এগুলি কথোপকথনের আগে ব্যবহার করা হয় এবং বলা হয়ে থাকে যে এটি একটি ভাল আচরণ। অভিবাদনটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সালাম মুসলমানদের মধ্যে একটি আদর্শ অভিবাদন। মুসলিম বক্তৃতা এবং খুতবা অনুষ্ঠানে নিয়মিত এই অভিবাদনটি বিনিময় হয়। এর পূর্ণ রূপ হল: সম্পূর্ণ ফর্ম ওয ...

ইসলামি অর্থনীতি
                                     

ⓘ ইসলামি অর্থনীতি

ইসলামী অর্থনীতি হলো কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা। ইসলামী কৃষ্টি ও তামাদ্দুন সমৃদ্ধ যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাই ইসলামী অর্থনীতি। প্রখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী ইবনে খালদুন বলেন- ইসলামী অর্থনীতি হলো জনসাধারণের সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নীতি-পদ্ধতি অনুসরণে সৃষ্টির লালন-পালনের যাবতীয় জাগতিক সম্পদের সামগ্রিক কল্যাণধর্মী ব্যবস্থাপনাই ইসলামী অর্থনীতি। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডঃ এম নেজাতুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন- "ইসলামী অর্থনীতি সমকালীন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুসলিম চিন্তাবিদদের জবাব"। ডঃ এম এ মান্নান বলেন- "ইসলামী অর্থনীতি হলো একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে"।

মাওলানা হিফযুর রহমান র. বলেন, "শরীআতের পরিভাষায়, যে বিদ্যা বা জ্ঞানের মাধ্যমে এমন সব উপায় সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া যায়; যার দ্বারা ধন-সম্পদ আহরণ ও ব্যয়ের উপযুক্ত ও সঠিক,পন্থা এবং বিনষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ নির্দেশ করা হয়, তাকে ইসলামী অর্থনীতি ইলমুল ইকতিসাদ বলা হয় ।"

                                     

1. ইসলামী অর্থনীতির গুরুত্ব, উদ্দেশ্য এবং সফলতা

ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে যেমনিভাবে আল্লাহর বিধান মেনে চলা আবশ্যক, অনুরূপভাবে অর্থ উপার্জন ও ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রেও আল্লাহর বিধান মেনে চলা আবশ্যক । অর্থনৈতিক জীবনে যাতে ভারসাম্য ক্ষুণ্ন না হয় এর জন্য হালাল-হারামের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে । গরীব যেন অনাহারে-অর্ধাহারে মারা না যায় সেজন্য যাকাত, উশর, খারাজ ইত্যাদির বিধান রাখা হয়েছে । এমনিভাবে ধনবৈষম্য সৃষ্টিকারী শোষণমূলক সুদ, জুয়া, লটারী, কালোবাজারী, মওজুদদারী, ওজনে কম দেওয়া, ভেজাল ইত্যাদি উপার্জনের পন্থাকে হারাম করা হয়েছে । বস্তুত ইসলামী অর্থব্যবস্থায় কোনোরূপ যুলুম, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবকাশ নেই । মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রে এর বাস্তবতা দেখা যায় । যে আরবের অধিবাসীরা একসময় বৈষম্য ও দারিদ্রের শিকার ছিল, ইসলামী অর্থনীতির স্পর্শে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাতে এমন পরিবর্তন সাধিত হলো যে, যাকাতের অর্থ নেওয়ার মতোও কাউকে পাওয়া যেত না ।

                                     

2. মূলনীতি

কিছু মুসলিম পন্ডিতের মত অনুযায়ী, মূলত সাতটি প্রধান মূলনীতি হল ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি। এই মূলনীতিগুলোর নিরিখেই অর্থনীতির সকল কর্মকৌশল, কর্মপদ্ধতি ও কর্মদ্যোগ নির্ধারিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে। এগুলো যথাক্রমে:

  • সকল কর্মকাণ্ডেই শরীয়াহর বিধান মান্য করা;
  • ভারসাম্যপূর্ন জীবন যাপনের প্রয়াস;
  • মৌলিক মানবিক প্রয়োজন পূরন নিশ্চত করা; এবং
  • শ্রমভিত্তিক বিনিময় ও বিনিময়ভিত্তিক শ্রম
  • আদল বা ন্যয়বিচার ও ইহসান বা কল্যাণ - প্রয়োগ;
  • যুগপৎ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জন
  • সকল ক্ষেত্রে আমর বিল মারুফ এবং নেহী আনিল মুনকার-এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাযকিয়া আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া আল্লাহভীরুতা অর্জন;
  • ব্যক্তির সম্পদে সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা;