Back

ⓘ চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা




চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা
                                     

ⓘ চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা

চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বলতে সাধারণতা: পণ্যের মূল্য বা ভোক্তার আয়ের তুলনায় পণ্যের চাহিদার পরিবর্তনশীলতা বোঝায়। পণ্যের চাহিদা এবং এর মূল্যের মধ্যে ফাংশনাল সম্পর্ক রয়েছে। গণিত বা অর্থনীতির পরিভাষায় চাহিদা পণ্যের মূল্যের ফাংশন। আবার চাহিদা সংশ্লিষ্ট ভোক্তার আয়েরও ফাংশন। অন্যভাবে বলা হয়, পণ্যের মূল্য এবং ভোক্তার আয় পণ্যের চাহিদার নিয়ামক। চাহিদা অনেক কিছুরই ফাংশন হতে পারে। অর্থাৎ, চাহিদার পরিমাণ অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করতে পারে। অতঃএব চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা এর নিয়ামকসমূহের যে কোনটির ওপর নির্ভর করে।

                                     

1. চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা

চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা ইরেজি: Price elasticity of demand) E d বা PED হল এমন একটি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার পরিমাপ যা নির্দেশ করে কোন দ্রব্য বা সেবার মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধি অনুযায়ী দ্রব্য বা সেবাটির চাহিদার পরিবর্তনের প্রকৃতি।

আলফ্রেড মার্শাল সর্বপ্রথম এই মতবাদের প্রচলন করেন। তার মতে,

দামের পরিবর্তনের ফলে চাহিদা যে দ্রুততা বা ধীরতার সাথে পরিবর্তিত হয়, তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে।

চাহিদা নির্ধারণকারী অন্যান্য বিষয়সমূহ স্থির থাকলে দ্রব্যের দামের এক শতাংশ পরিবর্তনের ফলে দ্রব্য বা সেবাটির চাহিদার যে পরিবর্তন হয় তার মাধ্যমেই এর চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বা স্থিতিস্থাপকতা গুণাঙ্ক পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ,

e ⟨ R ⟩ = d ⁡ Q / Q d ⁡ P / P {\displaystyle e_{\langle R\rangle }={\frac {\operatorname {d} Q/Q}{\operatorname {d} P/P}}}

এখানে d ⁡ Q / Q {\displaystyle {\operatorname {d} Q/Q}} হল চাহিদার পরিবর্তনের হার এবং d ⁡ P / P {\displaystyle {\operatorname {d} P/P}} হল দামের পরিবর্তনের হার।

এই সমীকরন থেকে দেখা প্রাপ্ত মান সাধারনত ঋনাত্বক মান প্রদান করে। কারণ চাহিদা বিধি অনুযায়ী দাম এবং চাহিদার পরিবর্তন পরস্পর বিপরীত।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি কোন দ্রব্যের দাম ৫% বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে এর চাহিদার পরিমাণ ৫% হ্রাস পায় তাহলে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা হবে -৫%/৫%=-১ । বেশিরভাগ দ্রব্যের ক্ষেত্রে যেহেতু স্থিতিস্থাপকতা ঋনাত্বক হয়ে থাকে তাই অনেক অর্থনীতিবিদ এই স্থিতিস্থাপকতার ধনাত্বক বা পরম মান ব্যবহার করে থাকেন।