Back

ⓘ ঠাকুরগাঁও জেলা




ঠাকুরগাঁও জেলা
                                     

ⓘ ঠাকুরগাঁও জেলা

ঠাকুরগাঁও জেলা ৫টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হচ্ছেঃ

  • রানীশংকৈল উপজেলা ও
  • হরিপুর উপজেলা।
  • বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • পীরগঞ্জ উপজেলা;
  • ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ২১টি: ১ রুহিয়া, ২ আখানগর, ৩ আকচা, ৪ বড়গাঁও, ৫ বালিয়া, ৬ আউলিয়াপুর, ৭ নং চিলারং ইউনিয়ন, ৮ রহিমানপুর, ৯ রায়পুর, ১০ জামালপুর, ১১ মোহম্মাদপুর, ১২ সালন্দর, ১৩ গড়েয়া, ১৪ রাজাগাঁও, ১৫ দেবীপুর, ১৬ নারগুন, ১৭ জগন্নাথপুর, ১৮ শুখানপুকুরী, ১৯ বেগুনবাড়ী, ২০ রুহিয়া পশ্চিম ও ২১ ঢোলার হাট ।
  • ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা;
  • ঠাকুরগাঁও জেলা ৫৩ টি ইউনিয়নেে বিভক্ত। এগুলো হলো

* বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ৮টি: ১ পাড়িয়া, ২ চাড়োল, ৩ ধনতলা, ৪ বড়পলাশ বাড়ী, ৫ দুওসুও, ৬ ভানোর, ৭ আমজানখোর ও ৮ বড়বাড়ি।

* পীরগঞ্জ উপজেলা ১০টি: ১ ভোমরাদহ, ২ কোষারাণীগঞ্জ, ৩ খনগাঁও, ৪ পীরগঞ্জ, ৫ সৈয়দপুর, ৬ হাজীপুর, ৭ দৌলতপুর, ৮ সেনগাঁও, ৯ জাবর হাট, ১০ বৈরচুনা ।

* হরিপুর উপজেলা ৬টি: ১ হরিপুর, ২ গেদুড়া, ৩ আমগাঁও, ৪ বকুয়া, ৫ ডাঙ্গীপাড়া, ৬ ভাতুরিয়া ।

* রাণীশংকৈল উপজেলা ৮টি: ১ ধর্মগড়,২ নেকমরদ, ৩ হোসেনগাঁও, ৪ লেহেম্বা,৫ বাচোর, ৬কাশিপুর,৭ রাতোর, ৮ নন্দুয়ার ।

                                     

1. ইতিহাস

টাংগন, শুক ও সেনুয়া বিধৌত এই জনপদের একটি ঠাকুর পরিবারের উদ্যোগে ব্রিটিশ শাসনমলে বর্তমান পৌরসভা এলাকার কাছাকাছি কোনো স্হানে একটি থানা স্হাপিত হয়। এই পরিবারের নাম অনুসারে থানাটির নাম হয় ঠাকুরগাঁও থানা। "ঠাকুর" অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের সংখ্যাধিক্যের কারণে স্হানটির নাম ঠাকুরগাঁও হয়েছে।

১৭৯৩ সালে ঠাকুরগ্রাম অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৬০ সালে এটি মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হয়। এর অধীনে ছয়টি থানা ছিল, এগুলো হলঃ ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও আটোয়ারী। ১৯৪৭ সালে এই ৬টি থানা এবং ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ৩টি থানা ও কোচবিহারের ১টি থানা নিয়ে ১০টি থানার মহকুমা হিসেবে ঠাকুরগাঁও নুতনভাবে যাত্রা শুরু করে। কিন্ত ১৯৮১ সালে আটোয়ারী, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেতুলিয়া নিয়ে পঞ্চগড় নামে আলাদা মহকুমা সৃষ্টি হলে ঠাকুরগাঁও মহকুমার ভৌগোলিক সীমানা ৫টি থানায় সংকুচিত হয়ে যায়। থানাগুলি হচ্ছে: ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।

এখানে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাঁওতাল ও উরাও মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। জেলার নেকমরদ, রাণীশংকৈল এসব স্হানে সুপ্রাচীন সভ্যতার নির্দশন বিদ্যমান।

                                     

2. শিল্প

শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঠাকুরগাঁও চিনি কল অন্যতম। এছাড়া জেলায় বিসিক শিল্প নগরী আছে; সেখানে কিছু কারখানা আছে। এরমধ্যে বিস্কুট ফ্যাক্টরী, সাবান ফ্যাক্টরী, প্লাস্টিক কারখানা, ফ্লাওয়ার মিল এবং জুট মিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সালন্দর ইউনিয়নে কাজী ফার্মস এর ফীড মিল আছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভেপর ১৯৭৬ সালে যুদ্ধত্তোর জনগণের বিশেষ করে অসহায় মহিলা ও পুরুষদের পূর্নবাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে একটি বেসরকারী সংস্থা RDRS কর্তৃক ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়৷ ১৯৮১ সালের ৩০ জুন সরকারী সিদ্ধান্তে অলাভজনক ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানাটি রেশম বোর্ডের নিকট হস্তান্তরিত হয়৷ এ সময় কারখানাটিতে ২০টি রিলিং বেসিন, ৩টি শক্তিচালিত তাঁত, ১৯টি হস্তচালিত তাঁত ও আনুসংগিক যন্ত্রপাতি সংস্থাপিত ছিল ৷ কারখানাটির চলতি মুলধন না থাকায় কারখানা পরিচালনার যাবতীয় অর্থ বোর্ডের উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে৷ ১৯৯৬ হতে ১৯৯৯ সালে ১৬৩.৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিএমআরই প্রকল্পের অধীনে কারখানাটির ভবন বর্দ্ধিতকরণসহ অতিরিক্ত ২০টি শক্তিচালিত তাঁতসহ কিছু আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংস্থাপিত হয়৷ কিন্তু আবর্তক তহবিলের অভাবসহ নানাবিধ কারণে কারখানাটি পরিচালনা সম্ভব হয়নি৷ ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্মরত ৮৬ জন জনবলকে গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয় ৷ রেশম কারখানাটির উত্পাদন কখনই লক্ষ্যমাত্রায় পৌছতে পারেনি৷ কারখানা হতে আয় দ্বারা কখনই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয়নি৷ ফলে এটি একটি লোকসানমূখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে পড়ে৷ কারখানাটিতে ফেব্রুয়ারী’২০০২ হতে নভেম্বর’২০০২ পর্যন্ত ১০ মাস শ্রমিকরে মজুরী প্রদান সম্ভব হয়নি৷ এ পর্যায়ে সরকারী সিদ্ধান্তে কারখানাটি বন্ধ ঘোষিত হয়৷

                                     

3. ভাষা

ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ সাধারণত কোচ রাজবংশীয় ভাষায় কথা বলে। এ ভাষাটি মূলত রাজবংশী, রংপুরী বা কামতাপুরী নামে পরিচিত যা ইন্দো-আর্য পরিবারভুক্ত একটি ভাষা। শ্রুতিমধুর এ ভাষা বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর অঞ্চলের মানুষ ছাড়াও ভারতের কোচবিহারের মানুষের মুখেও ব্যাপক প্রচলিত। রাজবংশী ভাষার কথ্যরূপগুলোর মধ্যে ৭৭-৮৯% মিল পাওয়া যায়। রাজবংশী ভাষা ৪৮-৫৫ ভাগ বাংলা, ৪৩-৪৯ ভাগ মৈথিলি এবং নেপালি শব্দ দ্বারা গঠিত।

                                     

4. শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ০০১,প্রস্তাবিত; কলেজ: ২৭; মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৪১; মাদ্রাসা: ৭৪; সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: ১ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ১ টি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হল-

  • টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
  • ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
  • ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়,
  • পুরাতন ঠাকুরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,
  • খোশবাজার ছালেহীয়া দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা
  • ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ,
  • কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ,
  • ইকো পাঠশালা ও কলেজ,
  • ঢোলার হাট এস সি উচ্চ বিদ্যালয়।
  • আবুল হোসেন সরকার ডিগ্ৰী কলেজ,
  • পুরাতন ঠাকুরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়,
  • ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ,
                                     

5. নদীসমূহ

ঠাকুরগাঁওয়ে অনেকগুলো নদী রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে টাঙ্গন নদী, ছোট ঢেপা নদী, কুলিক নদী, পুনর্ভবা নদী, তালমা নদী, পাথরাজ নদী, কাহালাই নদী, তীরনই নদী, নাগর নদী, তিমাই নদী, এবং নোনা নদী। এছাড়াও আছে শুক নদী, ছোট সেনুয়া নদী, আমনদামন নদী, লাচ্ছি নদী, ভুল্লী নদী এবং সোজ নদী।

                                     

6.1. চিত্তাকর্ষক স্থান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা

ঠাকুরগাঁও জেলায় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত দুটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা আছে। সেগুলো হচ্ছে ঢোলার হাট মন্দির ও জামালপুর জামে মসজিদ। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে হরিপুর রাজবাড়ি, রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি, বাংলা গড়, জগদল রাজবাড়ি, গড়গ্রাম দুর্গ প্রভৃতি।

                                     

6.2. চিত্তাকর্ষক স্থান অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান

  • রাজভিটা - হাটপাড়া, জাবরহাট ইউনিয়ন, পীরগঞ্জ উপজেলা;
  • সাপটি বুরুজ - ঠাকুরগাঁও উপজেলা;
  • মহেশপুর মহালবাড়ি ও বিশবাঁশ মাজার ও মসজিদস্থল - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • গেদুড়া মসজিদ - হরিপুর উপজেলা;
  • নেকমরদ মাজার - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • খুনিয়া দিঘী বধ্যভূমি রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামে;
  • প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন - নেকমরদ, রানীশংকৈল উপজেলা;
  • শালবাড়ি ইমামবাড়া - ভাউলারহাট, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা;
  • ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক - পীরগঞ্জ;
  • গড় ভবানীপুর - হরিপুর উপজেলা;
  • বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ - প্রায় ২০০ বছরের পুরনো, হরিণ মারি গ্রামে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • গড়খাঁড়ি - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • দিঘি সমূহ - পুরো জেলা জুড়ে ।
  • গোবিন্দনগর মন্দির - ঠাকুরগাঁও শহর;
  • কোরমখান গড় - ঠাকুরগাঁও শহর;
  • সনগাঁ মসজিদ - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • মালদুয়ার দুর্গ - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • ভেমটিয়া শিবমন্দির - পীরগঞ্জ পৌরসভা;
  • সপ্ন-জগৎ, দুরামারি ও রুহিয়া হাইওয়ে রোড সংলগ্ন, দুরামারি থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার
  • হরিণমারী শিব মন্দির - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • গোরক্ষনাথ মন্দির এবং কূপ - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • ফতেহপুর মসজিদ - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • মেদিনী সাগর মসজিদ - হরিপুর উপজেলা;
  • জাটিভাঙ্গা বধ্যভূমি, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপুখুরী ইউনিয়নের জাটিভাঙ্গা গ্রামে;


                                     

7. হাট-বাজার ও মেলা

  • মেলাসমূহ: - কালিমেলা, রুহিয়া আজাদ মেলা, নেকমরদ মেলা।
  • প্রধান প্রধান হাট-বাজারসমূহ: - শিবগঞ্জ বাজার, খোচাবাড়ী হাট, রুহিয়া রামনাথ হাট, গড়েয়া হাট, কালমেঘ হাট, যাদুরানী হাট, ফাড়াবাড়ী হাট, বেগুনবাড়ী হাট,কাতিহার হাট, লাহিড়ী হাট।