Back

ⓘ কুড়িগ্রাম জেলা




কুড়িগ্রাম জেলা
                                     

ⓘ কুড়িগ্রাম জেলা

কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের একটি" এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।

                                     

1. ভৌগোলিক সীমানা

কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে লালমনিরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ী জেলা ও দক্ষিণ শালমারা মানকাচর জেলা এবং পশ্চিমে লালমনিরহাট জেলা ও রংপুর জেলা অবস্থিত।

                                     

2. ইতিহাস এবং নামকরণ

কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নাতীত বা সন্দেহমুক্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সবই কিংবদন্তি ও প্রচলিত লোকশ্রুতি। তার কিছু কিছু বিষয় সমর্থনযোগ্য মনে হতে পারে। জানা যায়, কোন এক সময় মহারাজা বিশ্ব সিংহ কুড়িটি জেলে পরিবারকে উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরূপে স্বীকৃতি দিয়ে এ অঞ্চলে প্রেরণ করেন। এ কুড়িটি পরিবারের আগমনের কাহিনী থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিলু কবীরের লেখা বাংলাদেশের জেলা নামকরণের ইতিহাস বই থেকে জানা যায়, এখানে কুড়িটি মেচ্ তৈলজীবী পরিবারের বসতি ছিল বলে এ রকম নামকরণ হয়েছে। অন্য আরেকটি লোকশ্রুতি হলো: রঙ্গপুর অর্থাৎ এই অঞ্চল একদা ছিল কুচবিহার রাজ্যের অন্তর্গত। কুচবিহারের বাসিন্দাদের বলা হয় কোচ। এরা তিওড় গোষ্ঠীবিশেষও। মাছ ধরে বিক্রি করা তাদের পেশা। সুবিধাবঞ্চিত নিচু শ্রেণীর এই হিন্দু কোচদের কুড়িটি পরিবারকে সেখান থেকে এখানে প্রেরণ করা হয়েছিল বা আনয়ন করা হয়েছিল বসতি স্থাপনে জন্য। ওই কুড়িটি কোচ পরিবারের কারণে কুড়িগ্রাম নামকরণ হয়েছে। আবার এমনও জানা যায়, এই গ্রামে কুরি বা কুরী নামক একটি হিন্দু আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী বসবাস করত বলেই অঞ্চলটির নাম হয় কুড়িগ্রাম। অদ্যাবধি এখানে কুরি নামক আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস লক্ষ্য করা যায়। এখনও এ অঞ্চলে কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশিষ্ট পণ্ডিত জা পলিলুস্কি প্রমাণ করেছেন, গণনার এ পদ্ধতি বাংলায় এসেছে কোল ভাষা থেকে। কোল অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। আরব অস্ট্রিক ভাষায় কুর বা কোর ধাতুর অর্থ হলো মানুষ। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতিটিও এসেছে মানুষ থেকেই। এ অস্ট্রিক কারা? পন্ডিতদের মতে, প্রত্নপ্রস্তর যুগে এ অঞ্চলে বাস করত নিগ্রো জাতি। এরপর আসে নব্যপ্রস্তর যুগ। আসামের উপত্যকা অতিক্রম করে আসে অস্ট্রিক জাতীয় জনগোষ্ঠী। তারপরে আসে দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয়রা। এদের মিলিত স্রোতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মানবসভ্যতার সূচনা হয়। এরাই লাঙ্গল দিয়ে চাষের প্রবর্তন করেছে। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি করেছে চালু। নদনদীতে ডিঙি বেয়েছে, খেয়েছে শুঁটকি, খেয়েছে বাইগন বা বেগুন, লাউ বা কদু, কদলী বা কলা, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা। করেছে পশু পালন। এঁকেছে কপালে সিঁন্দুর। করেছে রেশম চাষ। করেছে তামা, ব্রোঞ্জ ও সোনার ব্যবহার। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৮৫৮ সালেপর শাসনকার্যের ক্ষমতা চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। এই ব্রিটিশ সরকারের আমলে কুরিগঞ্জ চারটি থানায় বিভক্ত ছিল। পরে ১৮৭৫ সালে ২২ এপ্রিল তারিখে একটি নতুন মহকুমার গোড়াপত্তন হয়। এ মহকুমার নাম কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রামঘেষা ব্রহ্মপুত্রের কারণে এখানে আসে বিভিন্ন আদিম জনগোষ্ঠী। এসব কারণে এখানে গড়ে উঠেছিল একটি সভ্যতাও। বিজিত আর্যদের কোন স্মৃতি এখানে নেই। তবে অন্যদের কিছু কিছু ক্ষীয়মাণ রাজচিহ্ন রয়েছে। বারো বা দ্বাদশ শতকের প্রথমপর্বে এ অঞ্চলে সেন রাজবংশের শাসনকাল আরম্ভ হয়। রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চত্রা নামক গ্রামে এদের রাজধানী ছিল। এ বংশের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন রাজার নাম নীলধ্বজ সেন, চক্রধ্বজ সেন, নীলাম্বর সেন। সেনবংশের পতনেপর শুরু হয় মুঘল যুগ।

                                     

3. প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

কুড়িগ্রামের মোট আয়তন: ২২৩৬.৯৪ বর্গ কিঃমিঃ। উপজেলা ৯টি, পৌরসভার ৩টি, ইউনিয়ন পরিষদ ৭৩টি এবং গ্রামের ১৮৬টি। মোট পাকা রাস্তা: ৪১৪.৯২ কিঃমিঃ এবং কাঁচা রাস্তা ৪২৬৭.৫৬ কিঃমিঃ।

সংসদীয় এলাকা

কুড়িগ্রাম জেলায় সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ৪টি।

  • কুড়িগ্রাম- ৪
  • কুড়িগ্রাম- ১ নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী
  • কুড়িগ্রাম– ৩ উলিপুর
  • কুড়িগ্রাম- ২
                                     

4. অর্থনীতি

এই এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার অর্থকরী ফসলের মধ্যে ধান, গম, আলু, পাট, তামাক, সরিষা, সুপারী, বাঁশ, আখ, ভুট্টা, বাদাম, কাউন উল্লেখযোগ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮৯৩টি, ৪টি বড়, ২৭টি মধ্যম এবং ৮৬২টি কুটির শিল্প। মোট আবাদী জমির পরিমাণ ২৫৯৬০৮.২১ একর।

                                     

5. শিক্ষা

শিক্ষার হার শতকরা ৫৬%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হল-

  • হাইস্কুলের সংখ্যাঃ২৬৬টি
  • কলেজের সংখ্যা: ৬৪টি
  • কলেজ সমুহঃ
  • মাদ্রাসার সংখ্যা: ২৩৮টি
  • নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ,
  • রৌমারী সরকারি কলেজ
  • স্কুল সমুহ
  • ভুরুংগামারী সরকারি কলেজ,
  • কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ,
  • উলিপুর সরকারি কলেজ।
  • কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ
  • ফুলবাড়ি জসিমিয়া সরকারি কলেজ
  • কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৪৫টি
  • নাগেশ্বরী ডি এম একাডেমি,
  • নাগেশ্বরী কামিল এমএ মাদ্রাসা
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৬৩টি
  • বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • সি,জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়
  • তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়, ভুরুংগামারী
  • উলিপুর এম এস স্কুল এন্ড কলেজ
  • কুড়িগ্রাম কামিল এমএ মাদ্রাসা,
  • ভুরুংগামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,
  • মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ
  • ভুরুংগামারী নে/উ বালিকা উঃবিঃ
  • এইলি মডেল স্কুল, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, রাজারহাট।

জেলার সর্বসাধারণের জন্য এখানে একটি সরকারি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। যা শহরের প্রাণকেন্দ্র তথা কলেজ মোড়, কুড়িগ্রাম সদর, কুড়িগ্রাম-এ অবস্থিত।



                                     

6.1. যোগাযোগ মাধ্যম রেলপথ

১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ সালে রাজধানী থেকে সেমি ননস্টপ ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হয়।

                                     

6.2. যোগাযোগ মাধ্যম সময়সূচী

৭৯৮ কুড়িগ্রাম থেকে ছাড়েঃ ০৭ঃ১৫ ঢাকা পৌছেঃ ১৭ঃ২৫

৭৯৭ ঢাকা থেকে ছাড়েঃ ২০ঃ৪৫ কুড়িগ্রাম পৌছেঃ ০৬ঃ২০

কুড়িগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থান

  • ধরলা সেতু২ বা শেখ হাসিনা-ফুলবাড়ী উপজেলা
  • সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • ধরলা সেতু
  • বিজয়স্তম্ভ স্টেডিয়াম সংলগ্ন
  • ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • দাশেরহাট কালী মন্দির
  • ঘোষপাড়া মুক্তিযোদ্ধো স্মৃতি ফলক
  • প্রথম আলো চর
  • শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক
  • শাপলা চত্বরকুড়িগ্রাম শহীদ মিনার
  • টুপামারী জিয়া পুকুর
  • উত্তরবঙ্গ জাদুঘর নতুন শহর
  • কুড়িগ্রামের ১ম শহীদ মিনারমজিদা কলেজ
  • কোটেশ্বর শিব মন্দির
  • উলিপুর মুন্সিবাড়ী
  • চান্দামারী মসজিদ
  • পাঙ্গা রাজার জমিদারবাড়ি
  • চতুর্ভূজ সেনপাড়া শিব মন্দির
  • ধলডাঙ্গা বাজার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • ফুল সাগর
  • জালার পীরের দরগাহ
  • উদুনা-পুদুনার বিল
  • ধামশ্রেণী মন্দির
  • ভিতরবন্দ জমিদারবাড়ি
  • সোনাহাট ব্রিজ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • চিলমারী বন্দর
  • বেহুলাচর
  • কালজানি ঘাট ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • মাধাইখাল কালী মন্দির-নাগেশ্বরী উপজেলা
  • তুরা বন্দর,রৌমারী উপজেলা
  • চাকিরপাশার বিল।
  • দাশিয়ার ছড়া সাবেক ছিটমহল
  • জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • বহলকুড়ি ভারত ও বাংলাদেশ ১০০১ নাম্বার রাষ্ট্রীয় সিমানা চুক্তি পিলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • টগরাইহাটের অচিন গাছ।
  • রাজিবপুর সীমান্ত হাট
  • আমতলি সর্বজনীন দুর্গা মন্দিররাজারহাট
  • জেলার ১৬ টি নদ-নদী
  • ৪২০ টির অধিক চরাঞ্চল
  • ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ মুখ-ঝুনকারচর থেকে খেয়ারচর।


                                     

7. কৃতি ব্যক্তিত্ব

  • শামসুল হক চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক গভর্নর ও সাবেক সংসদ সদস্য, কুড়িগ্রাম-১।
  • আব্বাসউদ্দীন আহমদ, সঙ্গীতশিল্পী।
  • সৈয়দ শামসুল হক, বাঙালি সাহিত্যিক
  • ভবানী পাঠক, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সন্ন্যাসীদের নেতা।
  • তারামন বিবি, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
  • কছিম উদ্দিন, ভাওয়াইয়া সঙ্গীতশিল্পী
  • সফিউল আলম রাজাভাওয়াইয়া শিল্পী