Back

ⓘ ক্লাইড ওয়ালকট




ক্লাইড ওয়ালকট
                                     

ⓘ ক্লাইড ওয়ালকট

স্যার ক্লাইড লিওপড ওয়ালকট, কেএ, জিসিএম বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।

থ্রি ডব্লিউ নামে পরিচিত এভারটন উইকস এবং ফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে তার নামটিও উচ্চারিত হতো। বৈশ্বিক পর্যায়ে তিনজনই অত্যন্ত সফল ব্যাটসম্যানরূপে স্বীকৃত ছিলেন ও ১৮ মাসের ব্যবধানে আগস্ট, ১৯২৪ থেকে জানুয়ারি, ১৯২৬ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে স্বল্পদূরত্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে তাদের একযোগে অভিষেক ঘটে। ১৯৫০-এর দশকের মধ্যবর্তী সময়কালে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরূপে পরিচিতি পেয়েছিলেন ক্লাইড ওয়ালকট । পরবর্তীতে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে প্রথম ইংরেজবিহীন ও অ-শ্বেতাঙ্গ সভাপতিরূপে ক্রিকেট প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।

                                     

1. প্রারম্ভিক জীবন

বার্বাডোসের ব্রিজটাউন এলাকার নিউ অর্লিয়েন্সে জন্মগ্রহণ করেন ওয়ালকট। বার্বাডোস অ্যাডভোকেট নামীয় সংবাদপত্রে তার বাবা প্রিন্টিং ইঞ্জিনিয়াররূপে কাজ করতেন। কম্বারমেয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর ১৪ বছর বয়স থেকে বার্বাডোসের হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানেই তিনি কলেজ দলের পক্ষে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনসহ ইনসুইঙ্গারের সাহায্যে বোলিংয়ের কলা-কৌশল রপ্ত করেন।

১৯৫১ সালে মুরিয়েল অ্যাশবি নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মাইকেল ওয়ালকট নামীয় পুত্রসহ দুই পুত্র রয়েছে। কিথ ওয়ালকট নামীয় ক্লাইড ওয়ালকটের এক ভাই ও মাইকেল - উভয়েই পরবর্তীকালে বার্বাডোস দলের পক্ষ হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন।

                                     

2. ক্রিকেট জীবন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় ১৯৪২ সালে বার্বাডোসের পক্ষে সর্বপ্রথম খেলেন ১৬ বছর বয়সী ক্লাইড ওয়ালকট। ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬ সালে প্রথম চমক দেখান তিনি। দীর্ঘক্ষণ উইকেটে অবস্থান করে বিদ্যালয়ের বন্ধু ফ্রাঙ্ক ওরেলকে সাথে নিয়ে ৪র্থ উইকেট জুটিতে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ৫৭৪ রান করেন। তিনি করেছিলেন ৩১৪* ও ফ্রাঙ্ক ওরেল ২৫৫*। এ রানের জুটিটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড যা অদ্যাবধি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুকূলে রয়েছে।

জানুয়ারি, ১৯৪৮ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন ওয়ালকট। ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্ট ড্র হয়েছিল। দীর্ঘদেহী ওয়ালকট স্ট্রোকপ্লেয়ার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে দ্রুততার সাথে কাট, ড্রাইভ অথবা পুল শট মারতেন তিনি। প্রথম ১৫টি টেস্টে দলের পক্ষ হয়ে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পিঠের ব্যথাজনিত কারণে গ্লাভস বা দস্তানা নিয়ে পিছনে না দাঁড়াতে পারায় ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ ঘটান ও সফলকাম হন। ফিল্ডিংয়ে স্লিপ অবস্থানে দাঁড়াতেন এবং মাঝে-মধ্যে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলারের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হতেন তিনি।

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে ইয়ান জনসনের অধিনায়কত্বে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে চমৎকার খেলেন। তিনি রেকর্ডসংখ্যক পাঁচটি শতরানের ইনিংস খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাভূত হয়।

                                     

3. অবসর পরবর্তী জীবন

২০০৬ সালে আর্সেনালের ফুটবলার থিও ওয়ালকট ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলে প্রথম মনোনীত হলে ব্যাপকভাবে গুঞ্জন রটিয়ে পড়ে যে স্যার ক্লাইড তার কাকা। দ্য সানডে টেলিগ্রাফে এ বিষয়ে একটি নিবন্ধে স্যার ক্লাইড বলেন যে, থিও ওয়ালকট তার আত্মীয় সম্পর্কীয় কেউ নন। ক্লাইড ওয়ালকট দুটি আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। ১৯৫৮ সালে আইল্যান্ড ক্রিকেটার্স এবং ১৯৯৯ সালে সিক্সটি ইয়ার্স অন দ্য ব্যাকফুট। ওয়ালকট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বপালনকালে প্রথিতযশা বোলার মাইকেল হোল্ডিংয়ের অভিষেক ঘটেছিল। তার মৃত্যুতে হোল্ডিং বলেন,

আরও একজন ভাল মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেন - তিনি শুধুমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের কীর্তিমান ব্যক্তি ছিলেন না; বরঞ্চ সমগ্র বিশ্বেরও কীর্তিমানদের একজন ছিলেন।

                                     

4. সম্মাননা

থ্রি ডব্লিউজ নামে খ্যাত এভারটন উইকস, ফ্রাঙ্ক ওরেল ও ক্লাইড ওয়ালকটের সম্মানার্থে বার্বাডোস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ কেনসিংটন ওভালের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করে।