Back

ⓘ অটো হান




অটো হান
                                     

ⓘ অটো হান

অটো হান, ফরমেমআরএস ছিলেন বিখ্যাত জার্মান ভৌত রসায়নবিদ। তিনি পরমাণু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। ১৯৩৮ সালে নিউক্লিয়ার ফিসন আবিষ্কার করেন যা পারমাণবিক বিভাজন নামে পরিচিত। তেজস্ক্রিয়তা এবং তেজস্ক্রিয়-রসায়নবিদ্যার পথিকৃৎদের অন্যতম তিনি। তাকে প্রায়শঃই পরমাণু রসায়নবিদ্যার জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি ১৯৪৪ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

                                     

1. প্রারম্ভিক জীবন

হেনরিখ হান ও শার্লত হানের কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন অটো হান। কার্ল, হেইনার এবং জুলিয়াস নামীয় তার তিন ভাই রয়েছে। অটো উপযুক্ত পরিবেশে ও পারিবারিক সান্নিধ্যে বড় হয়ে উঠেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি রসায়নশাস্ত্রে আগ্রহী হন। পরিবারের লন্ড্রি রুমে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অগ্রসর হন তিনি। তার বাবা চেয়েছিলেন যে তিনি যেন স্থাপত্যকলায় অধ্যয়ন করেন, নিজেকে গড়ে তুলেন এবং অগাধ বিত্ত-বৈভবের অধিকারী হন। কিন্তু অটো এ বিষয়ে নিজ আগ্রহহীনতার কথা তুলে ধরেন ও শিল্প রসায়নবিদ হিসেবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

                                     

2. অবদান

হান নাৎসি পার্টি কর্তৃক ইহুদী গণহত্যার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেপর তিনি উদীয়মান প্রচারকের ভূমিকায় থেকে পারমাণবিক শক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিপক্ষে ছিলেন। ১৯৪৬ সালে কাইজার উইলহেম সোসাইটির কেডব্লিউজি সর্বশেষ সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ম্যাক্স প্লাঙ্ক সোসাইটি এমপিজি-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তির ধারক ও বাহক এবং স্বাধীনচেৎা ব্যক্তি হিসেবে অনেকের কাছেই পরিগণিত ছিলেন। পশ্চিম জার্মানির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো অটো হানকে।

                                     

3. সম্মাননা

১৫ নভেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে বিজ্ঞানবিষয়ক রয়্যাল সুইডীশ একাডেমী ঘোষণা করে যে, ১৯৪৪ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কারের জন্যে অটো হানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে কিছু ইতিহাসবিদ দেখিয়েছেন যে নিউক্লিয়ার ফিশন সৃষ্টিতে অনবদ্য অংশগ্রহণের জন্যে সহযোগী লিজ মেইটনারকেও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা উচিত ছিল। কিন্তু ফার্ম হলে অবস্থানকালীন সময়ে এ বিষয়টি জানতেন না। তাকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে তাকে স্বাগতঃ টেলিগ্রাম পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল না। ডেইলি টেলিগ্রাফ সংবাদপত্র মারফত তিনি পুরস্কার প্রাপ্তির কথা জানতে পারেন। ১৮ নভেম্বর তারিখে তার সহকর্মী অন্যান্য জার্মান বিজ্ঞানীরা বক্তৃতা, হাসি-ঠাট্টা-তামাশা এবং গীতবাদ্য গেয়ে এ পুরস্কারকে উদযাপিত করে। ৪ ডিসেম্বর তারিখে হান ছাড়া পান এবং নোবেল কমিটিকে ধন্যবাদজ্ঞাপনপূর্বক চিঠি লিখে পুরস্কার গ্রহণের জন্যে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার উপস্থিত না থাকার সম্ভাবনাও ব্যক্ত করেন। কিন্তু তাকে আটককারী কর্মকর্তাগণ ফার্ম হল ত্যাগে বাধা-নিষেধ আরোপ করলে তিনি নোবেল উৎসবে যেতে পারেননি।