Back

ⓘ ভোলা জেলা




ভোলা জেলা
                                     

ⓘ ভোলা জেলা

ভোলার নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনি প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা। একসময় এটা পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলত। থুরথুরে বুড়ো এক মাঝি খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজনকে পারাপারের কাজ করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজি পাটনি। আজকের যোগীর ঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজির নামানুসারেই একসময় নামকরণ হয় ভোলা।

                                     

1. অবস্থান ও আয়তন

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলা প্রশাসন যাকে কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ বলে ঘোষণা করে। ভোলা জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা ও মেঘনা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা ও তেঁতুলিয়া নদী। এর মোট আয়তন ৩৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার।

                                     

2. চিত্তাকর্ষক স্থান

  • শাহবাজপুর মেঘনা পর্যটন কেন্দ্র
  • জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার, চরফ্যাশন
  • মনপুরা দ্বীপ
  • নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ
  • উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী
  • তুলাতলী পর্যটন কেন্দ্র ভোলা সদর
  • শিশু পার্ক
  • বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি যাদুঘর
  • দুদু মিয়ার মাজার
  • বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর জমিদার বাড়ি
  • সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক
  • তারুয়া সমূদ্র সৈকত
  • ফাতেমা খানম মসজিদ
  • চর কুকরী মুকরী
  • খামার বাড়ি -নজরুল নগর, চরফ্যাশন।
  • বিভাগীর টেক্সটাইল কলেজ
  • শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র
                                     

3. উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ
  • মোস্তফা কামাল
  • সিদ্দিকুর রহমান
  • মোশারেফ হোসেন শাজাহান
  • আমিনুল হক ফুটবলার
  • আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব
  • আলী আজম
  • তৌসিফ অভিনেতা
  • নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ
  • এম. এম. নজরুল ইসলাম
  • সাদ জগলুল ফারুক
  • মরহুম মোতাহার মাস্টার
  • আন্দালিব রহমান
  • তোফায়েল আহমেদ
  • নলিনী দাস ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী
  • জাফর উল্যাহ চৌধুরী
  • নাজিউর রহমান মঞ্জুর
  • নাজিম উদ্দিন আলম
  • জসিম উদ্দিন
  • হাফিজ ইব্রাহিম
  • নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন
                                     

4. যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভোলা শহর ঢাকা থেকে নদী পথে দূরত্ব ১৯৫ কি.মি.। সড়কপথে বরিশাল হয়ে দূরত্ব ২৪৭ কি.মি. এবং লক্ষীপুর হয়ে দূরত্ব ২৪০কি.মি.। ভোলার সাথে অন্য কোনো জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। অন্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য ভোলাবাসীকে লঞ্চ,স্পিড বোট এবং ফেরীর উপর নির্ভর করতে হয়।

                                     

5. বিবিধ

দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপোসাগর এবং দেশের সর্ববৃহৎ নদী মেঘনার কুল ঘেসে অবস্থিত একটি জেলা। যার সাথে কোনো জেলার সড়ক যোগাযোগ পথ নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে "তাহলে ভোলা কি চর?" না, ভোলা কোনো চর নয়।

দেশের সর্ব বৃহৎ দ্বীপ ভোলা এবং শুধু দ্বীপ নয় ভোলা দেশের সুসজ্জিত একটি জেলা।

ভোলা দেশের একমাত্র জেলা যে জেলার কোনো আঞ্চলিক ভাষা নেই। ভোলার মানুষ সব ধরনের ভাষায় সহজেই কথা বলতে পারে। ভোলাই দেশের সবচেয়ে অতিথি পরায়ণ জেলা।

দেশের সিংহ ভাগ ইলিশের চাহিদা মেটাতে ভোলা থেকেই সরবরাহ করা হয় রুপালি ইলিশ, জাতীয় গ্রিডের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকেই। গ্রিডে নতুন সরবরাহ ২২৫ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে ভোলায়। আছে দেশের ১২ তম সরকারি পলিটেকনিক ভোলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। দক্ষিণ বাঙলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট ভোলা সরকারি কলেজ। দেশের প্রায় অর্ধ ভাগ গ্যাস সরবরাহ করা হয় ভোলা থেকে।

ভোলার বিখ্যাত মহিষের দুধের টক দধি বিখ্যাত। সুপারি এবং মিষ্টির জন্য বিখ্যাত ভোলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ খেতাবটি এই জেলার দখলেই। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার ভোলাতেই অবস্থিত। নদী পথে শান্তির বাহন বিলাশবহুল লঞ্চগুলো ভোলার মানুষের গর্ব।