Back

ⓘ পেরিস্কোপ




পেরিস্কোপ
                                     

ⓘ পেরিস্কোপ

পেরিস্কোপ এক ধরনের দৃষ্টিগোচরীভূত যন্ত্র যা কোন গুপ্তস্থানে অবস্থান করে ব্যক্তি কর্তৃক কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। সাধারণতঃ এ যন্ত্রের প্রধান উপকরণ হচ্ছে - আয়না, চোখ দিয়ে দেখার উপযোগী ল্যান্স, আলো পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় রাস্তাসহ বাহ্যিক বা ভৌত অবকাঠামো। আলো পৌঁছানোর জন্যে কমপক্ষে দুইটি সরল ৪৫ ০ কৌণিক অবস্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শীর্ষভাগে রক্ষিত আয়না আলো গ্রহণ করে নিম্নের আয়নায় প্রেরণ করে। পেরিস্কোপের সাহায্যে একজন পর্যবেক্ষণকারী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ট্যাঙ্কে ও অস্ত্রশস্ত্রসজ্জিত গাড়ীতে পেরিস্কোপ ব্যবহার করতো।

যুদ্ধকালীন সময়ে ডুবোজাহাজ কিংবা পরীখার অভ্যন্তরে থেকে প্রতিপক্ষের অবস্থান নিশ্চিত করতে এর ব্যবহারের জুড়ি মেলা ভার। সাবমেরিনে ব্যবহৃত পেরিস্কোপ বেশ জটিল প্রকৃতির। একগুচ্ছ ল্যান্স, দুইটি টেলিস্কোপ এবং আয়নার পরিবর্তে প্রিজম দিয়ে বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। আধুনিককালের সাবমেরিনে ব্যবহৃত পেরিস্কোপের গঠনপ্রক্রিয়া আরো সরলতম যার দুইদিকে দুইটি টেলিস্কোপ বসানো হয়। যদি কোন কারণে দুই টেলিস্কোপ ভিন্নভাবে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো সঙ্কুচিত করার মাধ্যমে কার্যোপযোগী করা হয়।

                                     

1. ইতিহাস

১৮৫৪ সালে হিপ্পোলিত মারি-ডেভি নামীয় বিখ্যাত রসায়নবিদ ও ফরাসী আবিষ্কারক জলযানে ব্যবহার উপযোগী প্রথম পেরিস্কোপ যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। যন্ত্রটির দুই পার্শ্বের দুই প্রান্তে উলম্বাকৃতি নলে ক্ষুদ্র আয়না ৪৫ ০ কোণে লাগানো থাকতো। ১৯০২ সালে সিমন লেক তাঁর নিজস্ব সাবমেরিন আর্গোনাটে পেরিস্কোপ ব্যবহার করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে স্যার হাওয়ার্ড গ্রাব এ যন্ত্রের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। মর্গ্যান রবার্টসন পেরিস্কোপের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন যা তিনি তাঁর কল্পকাহিনীতে সাবমেরিনের বর্ণনা অংশে পেরিস্কোপের কথা তুলে ধরেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাইফেলে স্থায়ীভাবে পেরিস্কোপ বসানো ছিল। এরফলে প্রতিপক্ষ বিশেষ করে স্নাইপারদের আক্রমণ থেকে রক্ষাকল্পে পরীখা থেকে সৈন্যদের অবস্থান সম্বন্ধে নিশ্চিত করা যেতো।

                                     

2. জলযানে ব্যবহার

স্বল্প জলে সাবমেরিনের সাহায্যে পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। নিকটবর্তী লক্ষ্যবস্তুর অনুসন্ধান কিংবা জলে ভাসমান যুদ্ধযান, আকাশ নিরীক্ষণের এটি ব্যবহৃত হয়। যখন এর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না, তখন সাবমেরিনের অবকাঠামোর সাথে গুটিয়ে ফেলা হয়। ব্যবহৃত অবস্থায় কখনো এটি রাডারের সাহায্যে সনাক্ত করা সম্ভবপর। আয়না সহযোগে নৌযানে সাধারণ ব্যবহার উপযোগী প্রথম স্থির পেরিস্কোপ আবিষ্কার করেন মারি ডেভি। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ১৮৬১-১৮৬৫ সময়কালে থমাস এইচ. ডাউটি মার্কিন নৌবাহিনীতে প্রিজম ব্যবহারের মাধ্যমে পরবর্তী সংস্করণ আবিষ্কার করেন।

                                     

3. বহিঃসংযোগ

  • Simulation of a Periscope at NTNUJAVA Virtual Physics Laboratory
  • The Fleet Type Submarine Online: Submarine Periscope Manual United States Navy Navpers 16165, June 1979