Back

ⓘ পুঁজিবাদ




                                     

ⓘ পুঁজিবাদ

পুঁজিবাদ বা ধনতন্ত্র বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বোঝানো হয় যেখানে বাজার অর্থনীতিতে মুনাফা তৈরির লক্ষ্যে বাণিজ্য, কারখানা এবং উৎপাদনের উপকরণসমূহের উপর ব্যক্তিগত মালিকানার নিয়ন্ত্রণ থাকে। পুঁজিবাদের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করে পুঁজির সঞ্চয়ন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার এবং শ্রমিকের মজুরি। এটি হলো সেই সমাজ সংগঠন যাতে পণ্য সম্পর্ক, মানে কেনাবেচার সম্পর্ক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে পরিবার ও রাষ্ট্র থাকে। তবে পরিবার ক্রমাগত ক্ষুদ্র নিঃসঙ্গ পর্যায়ে নিছক বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার জায়গায় গিয়ে ঠেকে। রাষ্ট্র এখানে জবরদস্তির হাতিয়ারগুলো ধরে রাখে।, তবে ক্রমেই সে বাণিজ্যিক স্বার্থের খপ্পরে পড়ে, তার কার্যক্রম সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে সেবা কেনাবেচার দালালিতে গিয়ে ঠেকে। এটি সমাজতন্ত্রের বিপরীত একটি অর্থব্যবস্থা।

অধ্যাপক J.F.Ragan এবং L.B.Thomas এর মতে, বিশুদ্ধ ধনতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সম্পদ এর মালিক ব্যক্তি মালিকানা এবং বাজারের ওপর আস্থা যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা সমবেতভাবে নির্ধারণ করে কী দামে কী পরিমান পণ্য ও সম্পদ বিক্রয় হবে।"

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা। এই অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। এই ধরনের অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ থাকে না। স্বয়ংক্রিয় একটি মূল্যব্যবস্থার মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারিত হয়।

                                     

1. বৈশিষ্ট্য

  • এই উৎপাদন ব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানার ভিত্তিতে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ইত্যাদি শ্রেণিবিভাগ সৃষ্টি হয়।
  • বেশি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদক শ্রেণী শ্রমিকদের শোষণ করে, কম মজুরি প্রদান করে, অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে এবং বেশি শ্রম আদায়ের চেষ্টা করে।
  • এই অর্থ ব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে এবং পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে যে কেউ উদ্যোক্তা হতে পারে।
  • উদ্যোক্তার প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, উৎপাদক বিভিন্ন ভাবে তার পণ্যকে ভোক্তার কাছে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করে।
  • ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বণ্টন নিয়ন্ত্রণের কোন কর্তৃপক্ষ থাকে না। বাজারে কোন দ্রব্যের দাম, চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • এই অর্থব্যবস্থায় দেশের সম্পদের অধিকাংশই সমাজের পুঁজিপতিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। সমাজে আয় ব্যয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ধনীরা আরও ধনী হতে থাকে এবং দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হতে থাকে।
  • ভোক্তা তার ইচ্ছা, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে, অর্থাৎ ভোক্তার ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।
  • উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নির্ধারিত হয়।
  • উদ্যোক্তা বা উৎপাদকদের মধ্যে নতুন কলাকৌশল, মুনাফা বৃদ্ধি, কম খরচে উৎপাদন ও কম মূল্যে ভোক্তাদের কাছে দ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকে।