Back

ⓘ বাংলা খেঁকশিয়াল




বাংলা খেঁকশিয়াল
                                     

ⓘ বাংলা খেঁকশিয়াল

বাংলা খেঁকশিয়াল একপ্রজাতির খেঁকশিয়াল। বিগত কয়েক বছরে এদের সংখ্যা কমছে, তবে আশঙ্কাজনক হারে গিয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইনের তফসিল-২ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

                                     

1. দৈহিক গঠন

বাংলা খেঁকশিয়াল একটি মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৪৫-৬০ সেমি এবং লেজ ২৫-৩৫ সেমি। ওজন ১.৮-৩.২ কেজি। মাজল সরু এবং মাজলের উপরের অংশে লোমের ছোট পট্টি চোখে পড়ে। কান দেহের তুলনায় বড়। মাথা সরু। লেজ দেহের অর্ধেকেরও বেশি লম্বা। আঙুলের উপর ভর করে চলাফেরা করে। সামনের পায়ে আঙুল পাঁচটি ও পিছনে চারটি। ছেদন দন্ত তীক্ষ্নসূঁচালো ও পেষন দন্ত সুগঠিত। দন্ত সংকেত: কর্তন ৩/৩; ছেদন ১/১; অগ্রপেষন ৪/৪; পেষন ২/৩।

                                     

1.1. দৈহিক গঠন বর্ণ

মৌসুম ও বয়সভেদে বাংলা খেঁকশিয়ালের বর্ণের তারতম্য হয়ে থাকে। পিঠ সাদা ডোরাসহ লালচে-ধূসর। দেহের পাশ পিঠের তুলনায় বেশি ধূসর। দেহতল সাদাটে। বুকের নিচের অংশ ও তলপেট ফ্যাকাশে লালচে-হলুদ কিংবা হালকা পীত-সাদা। অবসারণীর দিকে লালচে ভাব বেশি। এর কাঁধে কোন আড়াআড়ি ফিতার মত দাগ থাকে না। পায়ের বাইরের অংশ উজ্জ্বল লালচে। চোখের সামনে মাজলের পাশে একটি করে কালো চিতি থাকে। কানের বাইরের অংশ ধূসর ও ভিতরের অংশ সাদাটে। ঋতু ও উপপ্রজাতি ভেদে পিঠের পিলেজের রঙে তারতম্য হতে পারে। তবে সাধারণত পিলেজ তামাটে-ধূসর। কানের কালচে-বাদামি পিলেজের প্রান্তদেশ কালো। বাংলা খেঁকশিয়ালের সবচেয়ে চোখে পড়ার মত অঙ্গটি হল এর বড় ঝাঁকড়া লেজ। লেজ ধূসর ও লেজের উপরিভাগ লালচে। লেজের আগা কালো।

                                     

2. বিস্তৃতি

কেবল আর্দ্র বনাঞ্চল ও চরম শুষ্ক এলাকা ছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এদের দেখা যায়। উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের তেরাই অঞ্চল থেকে ভারতের একেবারে দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকা থেকে পূর্বে বাংলাদেশ পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি সীমাবদ্ধ।