Back

ⓘ শফিকুর রহমান (বীর প্রতীক)




                                     

ⓘ শফিকুর রহমান (বীর প্রতীক)

শফিকুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।

                                     

1. জন্ম ও শিক্ষাজীবন

শফিকুর রহমানের জন্ম যশোর জেলার সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের জোত রহিমপুর গ্রামে। বাবার নাম নওয়াব আলী বিশ্বাস এবং মায়ের নাম জরিনা বেগম। তার স্ত্রীর নাম শাহনাজ বেগম। তাঁদের দুই ছেলে, দুই মেয়ে।

                                     

2. কর্মজীবন

শফিকুর রহমান চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোরে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে।

                                     

3. মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই সীমান্তচৌকি ঘিরে তৈরি করে দুর্ভেদ্য এক ঘাঁটি। সেদিন মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওই ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও সালাহউদ্দীন মমতাজ বীর উত্তম নেতৃত্ব দেন। সেখানে তখন গোলাগুলির শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত। বৃষ্টির মতো শত গুলি ধেয়ে আসছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান থেকে। গোলাও এসে পড়ছে। বিরামহীন গোলাবর্ষণ। শফিকুর রহমান ও তার সহযোদ্ধারা ভীতসন্ত্রস্ত হলেন না। অধিনায়কের নির্দেশ পেয়ে গোলাগুলি উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে তারা এগিয়ে যেতে থাকলেন সামনে। ঢুকে পড়লেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষার ভেতর। এমন সময় হঠাৎ একটি গোলা এসে পড়ল শফিকুর রহমানের পাশে। বিস্ফোরিত গোলার বড় এক স্প্লিন্টার আঘাত করল তার বাঁ হাতে। নিমেষে উড়ে গেল তার হাতের সামনের অংশ। গুরুতর আহত শফিকুর রহমান লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। এই আক্রমণ ও যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে একজন অফিসারসহ ৩১ জন যোদ্ধা শহীদ ও দুজন জুনিয়র কমিশন অফিসারসহ ৬৫ জন আহত হয়। আর শত্রুপক্ষের ৫০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়। ওই আক্রমণ যদিও পুরোপুরি সফল হয়নি, তবুও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটা একটা স্মরণীয় আক্রমণ ছিল। শফিকুর রহমান ওই যুদ্ধে আহত হওয়াপর সহযোদ্ধারা তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেন ফিল্ড হাসপাতালে। পরে ভারতে তার চিকিৎসা হয়।



                                     

4. পাদটীকা

  • এই নিবন্ধে দৈনিক প্রথম আলোতে ১৩-০২-২০১২ তারিখে প্রকাশিত তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না প্রতিবেদন থেকে লেখা অনুলিপি করা হয়েছে। যা দৈনিক প্রথম আলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন-শেয়ার-এলাইক ৩.০ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সে উইকিপিডিয়ায় অবমুক্ত করেছে অনুমতিপত্র। প্রতিবেদনগুলি দৈনিক প্রথম আলোর মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্টের পক্ষে গ্রন্থনা করেছেন রাশেদুর রহমান যিনি তারা রহমান নামেও পরিচিত।