Back

ⓘ বাগেরহাট জেলা




বাগেরহাট জেলা
                                     

ⓘ বাগেরহাট জেলা

বাগেরহাটের নাম কে করে দিয়েছিলেন তা গবেষণা সাপেক্ষ হলেও আজ তা নিরূপন করা দুঃসাধ্য। কারো কারো মতে বাগেরহাটের নিকটবর্তী সুন্দরবন থাকায় এলাকাটিতে বাঘের উপদ্রব ছিল, এ জন্যে এ এলাকার নাম হয়ত ‘‘বাঘেরহাট’’ হয়েছিল এবং ক্রমান্বয়ে তা বাগেরহাট-এ রূপান্তরিত হয়েছে। মতান্তরে হযরত খান জাহান আলী এর প্রতিষ্ঠিত ‘‘খলিফাত-ই-আবাদ’’ এর বিখ্যাত ‘‘বাগ’’ অর্থ বাগান, এ অঞ্চলে এতই সমৃদ্ধি লাভ করে যে, তা থেকেই হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগের আবাদ তথা ‘‘ বাগেরহাট’’। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি হচ্ছে শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদীর উত্তর দিকের হাড়িখালী থেকে বর্তমান নাগের বাজার পর্যমত্ম যে লম্বা বাঁক অবস্থিত, পূর্বে সে বাঁকের পুরাতন বাজার এলাকায় একটি হাট বসত। আর এ হাটের নামে এ স্থানটির নাম হলো বাঁকেরহাট। কালক্রমে বাঁকেরহাট পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট নামে।

                                     

1. অবস্থান ও আয়তন

বাগেরহাট জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলা, পশ্চিমে খুলনা জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা। ২২°৩২’ থেকে ২২°৫৬’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৩২’ থেকে ৮৯°৪৮’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বাগেরহাট জেলার অবস্থান। এ জেলার আয়তন ৫৮৮২.১৮ বর্গকিলোমিটার; তারমধ্যে ১৮৩৪.৭৪ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল, ৪০৫.৩ বর্গকিলোমিটার জলাশয় এবং অবশিষ্টাংশ নিম্ন-সমভূমি। বাগেরহাট জেলা সদরের অধিকাংশ ভৈরব নদীর পশ্চিম তীরে এবং শহরের বর্ধিত অংশ ভৈরবের দক্ষিণ প্রবাহ দড়াটানার পশ্চিম তীরে অবস্থিত।বঙ্গবসাগরেের উত্তরে এটি অবস্থিত।

                                     

2. প্রশাসনিক এলাকা

পৌরসভা ০৩ টি, গ্রামেরসংখ্যা ১,০৪৭ টি। বাগেরহাট জেলা মোট ৯ টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:

  • শরণখোলা উপজেলা
  • মোড়েলগঞ্জ উপজেলা
  • মোল্লাহাট উপজেলা
  • রামপাল উপজেলা
  • কচুয়া উপজেলা
  • বাগেরহাট সদর উপজেলা
  • চিতলমারী উপজেলা
  • ফকিরহাট উপজেলা
  • মোংলা উপজেলা
                                     

3. ইতিহাস

বাগেরহাটে প্রথম বসতি স্থাপন করে অনার্য শ্রেণীর মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছে ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চল হতে আসা অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলীয় আলপাইন প্রভৃতি। এ অঞ্চলে অনার্য প্রভাবের বড় নিদর্শন হল পৌন্ড্রক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে রামপাল উপজেলায় এ সম্প্রদায়ের লোক বেশি বাস করে। পৌন্ড্র শব্দের অপভ্রংশ পুড়া বা পোদ। পৌন্ড্র শব্দটি দ্রাবিড় শব্দজাত যার অর্থ ইক্ষু। অনার্য শ্রেণীভূক্ত নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ ও বাগেরহাটে প্রচুর বাস করে। এদের পূর্ব নাম চন্ডাল। এরা বরেন্দ্র অঞ্চল হতে এসে এখানে বসবাস শুরু করে। এ ছাড়া বাগেরহাটে এক শ্রেণীর মৎস্য শিকারী বা জেলে বসবাস করে যাদের আদি পুরুষ নিগ্রোবটুনিগ্রয়েড । এরা ভারত উপমহাদেশের আদিমতম অধিবাসী। খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়া হতে এ অঞ্চলে আর্য তথা আদি নর্কিভ বা ইন্ডিভদের আগমণ ঘটে। আর্য-অনার্যের শোণিত ধারাই এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে ।বস্ত্ত পূজারী অনার্যগণ কৌমধর্ম টাইবাল ধর্ম অনুসরণ করতো। শক্তি পূজারী আর্যরা নিয়ে আসে বৈদিক ধর্ম। সূর্য ও অগ্নি ছিল তাদের অন্যতম উপাস্য। আর্য ও অনার্য উভয় ধর্মের আচার অনুষ্ঠান রীতিনীতির মিশ্রণে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুধর্ম। বাগেরহাটের অতি প্রাচীন স্থান পানিঘাটে প্রাপ্ত কষ্টি পাথরের অষ্টাদশ ভূজা দেবীমূর্তি, মরগা খালের তীরে খানজাহান আলী এর পাথর ভর্তি জাহাজ ভিড়বার স্থান জাহাজঘাটায় মাটিতে গ্রোথিত পাথরে উৎকীর্ণ অষ্টাদশ ভূজা মহিষ মর্দিনী দেবীমূর্তি, চিতলমারী উপজেলাধীন খরমখালি গ্রামে প্রাপ্ত কৃষ্ণ প্রস্তরের বিষ্ণু মূর্তি ইত্যাদি নিদর্শন এখানে হিন্দু সভ্যতা বিকাশের পরিচয় বহন করে। ১৪৫০ খ্রিঃ খানজাহান আলী খাঞ্জেলী দীঘি খনন করান। এ সময় অনন্য সাধারণ ধ্যাণী বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে বৌদ্ধ পুরোহিত বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো পাল আমলে নির্মিত ঐ বৌদ্ধমূর্তিটি কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারে সংস্থাপন করেন। এটা এ অঞ্চলে বৌদ্ধ প্রভাবের পরিচয় বহন করে।



                                     

4. অর্থনীতি

বাগেরহাট জেলার মানুষ প্রধানত কৃষি নির্ভর। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল ও সুপারি জন্মে। ধান, মাছ ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির প্রধান উৎস। তাছাড়াও সুন্দরবন উপকূলের কিছু মানুষ মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

                                     

5. শিক্ষাতথ্য

বাগেরহাট জেলায় সাক্ষরতারহার ৭৪.৬২% পুরষ ৭৬.৭৫%,মহিলা ৭২.৪৮%, শিক্ষারহার ৬৫%, প্রাথমিকবিদ্যালয় মোট ১০৯০টি, মাধ্যমিকবিদ্যালয় ২৮২টি, নিম্নমাধ্যমিকবিদ্যালয় ৫০টি,কলেজিয়েট ০৬টি, মহাবিদ্যালয় ৩৩টি, মাদ্রাসা ২৪৫টি।অন্যান্যশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: কারিগরী কলেজ-০১টি, পিটিআই-০১টি, ভিটিআই-০১টি, কারিগরী প্রশিক্ষণকেন্দ্র-০৪টি, কৃষি ও প্রযুক্তি কলেজ ০১টি, যুবপ্রশিক্ষনকেন্দ্র-০১টি, হোমিওপ্যাথিক কলেজ ০১টি, মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল-০১টি, শারীরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ০১টি, সরকারি শিশুসদন-০২টি, আইন কলেজ-০১টি, টেক্সটাইল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট- ০১টি।

                                     

6. স্বাস্থ্যতথ্য

বাগেরহাট জেলায় হাসপাতাল ১১টি, শয্যাসংখ্যা ৪১৫টি, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণকেন্দ্র ৬২টি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৯%, নলকূপেরসংখ্যা ২০,০৫২টি, গভীরনলকূপ ৫,১৯৯টি সচল-৫,১৪৩টি, অকেজো-৫৬টি, অগভীরনলকূপ ১৪,৮৫৩টি সচল-১২,৯৩০টি, অকেজো-১,৯২৩টি, পিএসএফ ১৮৫৮টি সচল-১৫০৮টি, অকেজো-৩৫০টি, ভিএসএসটি ১২২৮টি সচল-১০৫০টি, অকেজো-১৭৮টি, এসএসটি ২,৬১৯টিসচল-২৪৬৪টি, অকেজো-১৫৫টি, রেইনওয়াটারহারভেস্টিং ৮৮টি, স্যানিটেশনকভারেজ ১০টি।

                                     

7. কৃষিতথ্য

মোট জমির পরিমাণ ১,৭৪,৮২৪হেক্টর। আবাদী ১,৫৬,৩৮৮হেক্টর ফসলীজমি ১,৩৩,৮৯৮ হেক্টর, ফলবাগান ২২,৪৯০হেক্টর, অনাবাদী/পতিত ৮,৯৭৮হেক্টর, স্থায়ীজলাবদ্ধজমি ৯,৪৫৮হেক্টর।প্রধান উৎপন্ন ফসল: ধান, পাট, পান, কলা, নারিকেল, সুপারি, ডাল, আলু, তরমুজ, আখ ও শাকসবজি। এ অঞ্চল চিংড়ি মাছ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।

                                     

8.1. চিত্তাকর্ষক স্থান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা

  • খান জাহানের নির্মিত প্রাচীন রাস্তা
  • মসজিদের শহর
  • রণবিজয়পুর মসজিদ
  • বড়বাড়িয়া মুন্সীবাড়ি প্রাচীন মসজিদ,চিতলমারী,বাগেরহাট
  • পীর আলীর সমাধি
  • সিংগার মসজিদ
  • খান জাহানের সমাধি
  • ষাট গম্বুজ মসজিদ
  • জিন্দা পীর মসজিদ
  • রেজা খোদা মসজিদ
  • দশ গম্বুজ মসজিদ
  • বিবি বেগনী মসজিদ
  • নয়গম্বুজ মসজিদ
  • শ্রী শ্রী গঞ্জেশ্বরী কালী মন্দির, বাগেরহাট।
  • ঠান্ডা পীর মসজিদ
  • ছয় গুম্বজ মসজিদ, বৈটপুর
  • কোদলা মঠ
  • মুনিগঞ্জ শিবমন্দির, বাগেরহাট।
  • কুটিবাড়ি,জমিদারবাড়ি,মোড়েলগঞ্জ।
  • বড় আজিনা
  • সিংগাইর মসজিদ
  • এক গম্বুজ জামে মসজিদ, বাগেরহাট
  • চুনাখোলা মসজিদ
                                     

8.2. চিত্তাকর্ষক স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

  • সুন্দরবন
  • চাঁদপাই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  • মাঝের চর, শরণখোলা
  • সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  • দুবলাচর
  • টাইগার পয়েন্ট
  • কটকা সমুদ্র সৈকত
  • দুধমুখী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
  • ঢাংমারী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য
                                     

8.3. চিত্তাকর্ষক স্থান দীঘি/ জলাশয়

  • কোদাল ধোয়া দীঘি
  • পচা দীঘি
  • ঘোড়া দীঘি
  • খানজাহান আলীর দীঘি
                                     

8.4. চিত্তাকর্ষক স্থান অন্যান্য

  • শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম
  • বাগেরহাট জাদুঘর
  • ডিসি পার্ক, যাত্রাপুর
  • ওয়ান্ডার কিংডম
  • চন্দ্রমহল, রনজিতপুর।
  • খান জাহান আলী বিমানবন্দর
  • রুপা চৌধুরী পৌর পার্ক
  • মংলা বন্দর
  • বাগেরহাট পৌর পার্ক
  • সুন্দরবন রিসোর্ট, বারাকপুর
                                     

9. উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

শিক্ষাবিদ

  • আবদুল জাব্বার জাহানাবাদী, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব

কবি ও সাহিত্যিক

  • স্বরোচিষ সরকার, আভিধানিক ও বৈয়াকরণ
  • আবদুল্লাহ আবু সায়ীদসাহিত্যিক, সংগঠক
  • মোহাম্মদ রফিক কবি
  • মোহাম্মদ মোহর আলী ইতিহাসবেত্তা
  • রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহকবি
  • আবুল হোসেন কবি
  • নীলিমা ইব্রাহিম, সাহিত্যিক
  • মতিউর রহমান মল্লিক কবি ও সাহিত্যিক

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা

  • খিজির আলী বীর বিক্রম
  • মোহাম্মদ হোসেন বীর প্রতীক
  • এনামুল হক বীর প্রতীক
  • লিয়াকত আলী খান বীর উত্তম

খেলোয়াড়

  • হেমায়েত মোল্লা,ক্যারম খেলোয়াড়
  • জুপিটার ঘোষ,ক্রিকেট খেলোয়াড়
  • রুবেল হোসেন,ক্রিকেট খেলোয়াড়
  • আব্দুর রাজ্জাক সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড়
                                     

10. লোক সংস্কৃতি

মেলা

  • কালখেরবেড়ের মেলা
  • চাঁদপাই এর মেলা
  • মঘিয়ার মেলা
  • মধুমতী নদীর নৌকা বাইচ
  • কালাচাঁদ ফকিরের মেলা
  • রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মেলা
  • তালেশ্বরের রথের মেলা
  • যাত্রাপুরের রথের মেলা
  • বাণিজ্য মেলা
  • খানজাহান আলী রঃ মাজারের ওরস
  • ভৈরব নদের নৌকা বাইচ
  • বৈশাখী মেলা
  • দুবলার চরের রাস মেলা