Back

ⓘ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির




                                     

ⓘ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। এটি ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন। এই দলটির পূর্বতন নাম ছিল পাকিস্তান ছাত্র সংঘ । ছাত্র হওয়া ছাড়া কেউ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য হতে পারেনা।

                                     

1. ইতিহাস

১৯৭১ এর পূর্বে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংস্থার নাম ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘ । ১৯৭৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা "বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির" নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৭ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শিবির প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মীর কাশেম আলী এবং প্রতিষ্ঠাকালিন দলটির সদস্য ছিলো মাত্র ছয় জন। সংগঠনের নীতি অনুসারে এদের কার্যক্রম পাচঁটি দফার উপর প্রতিষ্ঠিত।

                                     

2. তহবিল

শিবির সদস্যরা তাদের সংগঠন পরিচালনার অর্থ তাদের কর্মী, সাথী ও সদস্যদের নিকট থেকে মাসিকভাবে আদায় করে থাকে। তাদের সাংগঠনিক প্রকাশনীর মুনাফা ও যাকাত বায়তুলমালের অন্যতম আয়ের উৎস। যদিও যাকাতের টাকাকে বাইতুলমালে উৎস করায় অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের সমালোচনায় আছে সংগঠনটি।

                                     

3. সমালোচনা

ছাত্র সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাদের দায়ে দন্ডিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধংসাত্বক আন্দোলনের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অধিভুক্ত ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর স্টাডি অব টেরোরিজম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেরোরিজমের তৈরি ফাইলে ছাত্র শিবিরকে একটি ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয় যে এটির সাথে পৃথিবীর বৃহৎ জঙ্গী সংগঠনসমূহের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্র শিবির নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়।

                                     

4. গুমের স্বীকার

৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২ আনুমানিক ১:০০ টার দিকে আল ফিকাহ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাস ২২ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স প্রার্থী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ ২৩ সাভার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে অভিযোগ গুম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তারকারীরা নিজেকে র‌্যাব -৪ এবং ডিবি পুলিশ সদস্য হিসাবে পরিচয় দেয়।

দুজনই ইসলামী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য এবং র‌্যাব ও গোয়েন্দা শাখা ডিবি এর সদস্যরা ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ। তাদের কাছ থেকে আর কিছু শোনা যায় নি এবং তাদের অবস্থান অজানা। র‌্যাব একটি বাংলাদেশি সংবাদপত্রে বিবৃতিতে ওই দুজনকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বেশ কয়েকটি উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন এবং নিখোঁজ হওয়ার একটি নিদর্শন র‌্যাবকে অস্বীকার করার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ অন্যান্য অধিকার সংস্থাগুলি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

                                     

5. দমন-পীড়ন

২০১০ সাল থেকে শিবিরকে বারবার ক্র্যাকডাউন করে টার্গেট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশে হামলা বন্ধ করা জরুরি, কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদেরকে রাজনৈতিক ক্র্যাকডাউন হিসাবে দেখছে।