Back

ⓘ হাঙ্গেরি




হাঙ্গেরি
                                     

ⓘ হাঙ্গেরি

হাঙ্গেরি বা হাঙ্গেরীয় প্রজাতন্ত্র মধ্য ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। হাঙ্গেরির অধিকাংশ এলাকা দানিউব উপত্যকা তথা হাঙ্গেরীয় সমভূমিতে অবস্থিত। এই সমতলভূমির ভেতর দিয়ে দানিউব নদী প্রবাহিত হয়েছে। হাঙ্গেরির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বুদাপেস্ট দানিউব নদীর উভয় তীরে অবস্থিত। শহরটি পূর্ব মধ্য ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। হাঙ্গেরির বর্তমান সীমানা প্রথম বিশ্বযুদ্ধেপর ত্রিয়াননের চুক্তিতে ১৯২০ সালে নির্ধারিত হয়।

হাঙ্গেরির জনগণ নিজেদেরকে "মজর" Magyar নামে ডাকে। মজরেরা ছিল এশিয়া থেকে আগত যাযাবর গোষ্ঠী। ৯ম শতাব্দীর শেষভাগে আরপাদের নেতৃত্বে মজরেরা দানিউব ও তিসজা নদীর মধ্যবর্তী সমভূমি জয় করে, যা বর্তমান হাঙ্গেরীয় সমভূমির মধ্যভাগ। ১১শ শতকের শুরুর দিকেই মজরেরা রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ হয় এবং খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। হাঙ্গেরির প্রথম রাজা ছিলেন প্রথম স্টিফেন ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ। ১০৮৩ সালে তাকে সাধু ঘোষণা করা হয়।

১৪শ শতকে বিদেশী শাসকেরা হাঙ্গেরি জয় করে। ১৪শ ও ১৫শ শতক ধরে বিভিন্ন ইউরোপীয় রাজবংশ হাঙ্গেরি শাসন করে। এরপর ১৬শ ও ১৭শ শতকে দেশটির অধিকাংশ ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের দখলে। এসময় দেশটির পশ্চিমের কিয়দংশ অস্ট্রিয়ার হাব্‌সবুর্গ রাজবংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ১৭শ শতকের শেষভাগে এসে হাব্‌সবুর্গেরা প্রায় সমস্ত হাঙ্গেরি দখলে নিতে সক্ষম হয়। হাঙ্গেরীয়রা ১৮৪৮ সালে হাব্‌সবুর্গদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, কিন্তু তা দমন করা হয়। ১৮৬৭ সালে দুই পক্ষ সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে একটি দ্বৈত সাম্রাজ্য গঠন করে, যার নাম দেয়া হয় অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১৯১৪-১৯১৮ পর অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বিলীন হয়ে যায় এবং হাঙ্গেরি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেপর হাঙ্গেরিতে সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতা দখল করে এবং দেশটি সোভিয়েত-অনুগত দেশগুলির কাতারে যোগ দেয়। ১৯৯০ সালের নির্বাচনেপর একটি অ-সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে।

                                     

1. শিল্প ও বাণিজ্য

হাঙ্গেরি মোটামুটি সমৃদ্ধ দেশ। শিল্পসমূহের মধ্যে আছে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, সিমেন্ট কারখানা, সার কারখানা, চিনি শিল্প, রাসানিক শিল্প, চামড়া শিল্প প্রভৃতি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। হাঙ্গেরিতে তেল ও গ্যাস ছাড়া অন্যান্য খনিজ দব্যের মধ্য আছে কয়লা, লিগনাইট, বক্সাইট প্রভৃতি।