Back

ⓘ কলকাতা মেট্রো




কলকাতা মেট্রো
                                     

ⓘ কলকাতা মেট্রো

কলকাতা মেট্রো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও হাওড়া জেলার অংশবিশেষে পরিষেবা প্রদানকারী দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুসারে, কলকাতা মেট্রোর দুটি সক্রিয় যাত্রাপথ রয়েছে, একটি হলো দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১.৩৬ কিমি মেট্রো লাইন এবং অপরটি ৭.২০৫ কিমি দীর্ঘ সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে ফুলবাগান মেট্রো লাইন। এই ব্যবস্থায় ৩৮.৫৬৫ কিলোমিটার পথে ব্রডগেজ এবং আদর্শগেজ উভয় বিস্তারযুক্ত ৩৩ টি মেট্রো স্টেশন বিদ্যমান, যার মধ্যে ১৬ টি স্টেশন ভূগর্ভস্থ, ১৫ টি স্টেশন উত্তোলিত এবং ২ টি স্টেশন ভূমিগত। এছাড়া আরো চারটি লাইন বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মীয়মান হয়ে রয়েছে৷ ভারতীয় প্রমাণ সময় ০৫:৪৫ থেকে ২১:৫৫ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকে এবং মেট্রোর ভাড়া ₹৫ থেকে ₹৩০ এরমধ্যে হেরফের করে।

১৯৮৪ সালে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা দ্বিতীয় মেট্রো পরিষেবা দিল্লি মেট্রো চালু হয় ২০০২ সালে। প্রাথমিকভাবে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে এর পরিকল্পনা করা হলেও সত্তরের দশকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়৷ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রোর প্রথম ধাপটি ছিলো ভবানীপুর বর্তমান নেতাজি ভবন থেকে এসপ্ল্যানেড অবধি দীর্ঘায়িত ছিল। ২০২০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেট্রোর লাইন-২ বা পূর্ব-পশ্চিম করিডোর চালু হয়। এটি দিল্লি মেট্রো, হায়দ্রাবাদ মেট্রো, চেন্নাই মেট্রো এবং নাম্মা মেট্রোপর বর্তমানে ভারতের কর্মক্ষম পঞ্চম দীর্ঘতম মেট্রো যোগাযোগ ব্যবস্থা।

কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ লাইনটি উত্তরে দক্ষিণেশ্বর থেকে দক্ষিণে কবি সুভাষ নিউ গড়িয়া পর্যন্ত ৩১.৩৬ কিলোমিটার প্রসারিত ও মোট স্টেশনের সংখ্যা ২৫ টি। এবং নোয়াপাড়াপর থেকে বরাহনগর হয়ে লাইনটি দক্ষিনেশ্বর অবধি সম্প্রসারিত হয় ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১এ। এই লাইনে ভূগর্ভস্থ ও উড়াল, উভয় প্রকার ট্র্যাকেই ট্রেন চলাচল করে। প্যারিস মেট্রোর মতো কলকাতা মেট্রোতেও দেশের বিভিন্ন মণীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্টেশনের নামকরণ করা হয়ে থাকে। পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের মেট্রো ভবনে কলকাতা মেট্রোর সদর কার্যালয় অবস্থিত। ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতা মেট্রোর দ্বিতীয় লাইন হিসাবে পূর্ব-পশ্চিম লাইনের সেক্টর ৫ থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত ৫.৮ কিলোমিটার পথ খোলা হয় যেখানে মোট ৬ টি স্টেশন রয়ছে এবং প্রতিটি স্টেশন সহ রেলপথটি উত্তোলিত ভাবে নির্মিত।

মেট্রো রেলওয়ে, কলকাতা, এবং কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন এই রেল পরিষেবার কর্ণধার ও পরিচালক৷ ২০১০ সালের ২৯শে ডিসেম্বর কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে ভারতীয় রেলওয়ের ১৭তম ক্ষেত্র বলে চিহ্নিত হয়৷ এটি পুরোপুরিভাবে ভারতীয় রেল মন্ত্রকের অধিকৃত ও নিহিত৷ এটিই একমাত্র মেট্রো পরিষেবা যা ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এবং ভারতীয় রেলের একটি ক্ষেত্রীয় রেলওয়ের মর্যাদা ভোগ করে। দৈনিক ৩০০ টি ট্রেন যাত্রায় ৭,০০,০০০-এর অধিক যাত্রী পরিষেবা ভোগ করেন৷

বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর একাধিক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও নতুন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।

                                     

1.1. ইতিহাস প্রাথমিক প্রচেষ্টা

কলকাতা শহরের জন্য একটি পূর্ব-পশ্চিম রেলপথ সংযোগ হিসাবে" ইস্ট-ওয়েস্ট টিউব রেলপথ” ১৯২১ সালে ব্রিটিশ রাজ আমলে হার্লি হিউ ডালরিম্পল হে দ্বারা প্রস্তাবিত হয়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৯২৩ সালে তহবিলের অভাবে এটি নেওয়া হয়নি। যদিও প্রাথমিক প্রচেষ্টা করা হয় ১৯১৯ সালে, মানুষকে সময়মতো তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর সুবিধা দিতে। সিমলাতে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে স্যার ডব্লু ই ক্রাম একটি কমিটি গঠন করেন কলকাতার জন্য একটি মেট্রো লাইনের প্রস্তাব করে। এই লাইনটি হুগলি নদীর নিচে একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে পূর্বের বাঘমারি এবং হাওড়ার সালকিয়া বেনারস রোডকে সংযুক্ত করার কথা ছিল। নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলিত £৩৫,২৬,১৫৪ পাউন্ড বা প্রায় ৪.২৮ কোটি বর্তমান বিনিময় হারের ভিত্তিতে, এবং প্রস্তাবিত সময়সীমা ছিল ১৯২৫-২৬ সাল। প্রস্তাবিত লাইনটি ১০.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্তমান পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের চেয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার কম, যা বঘমারীতে ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে এবং বেনারস রোডে ভারতীয় রেলকে সংযুক্ত করবে। তিনি তখন উত্তর-দক্ষিণ লাইনের কথাও উল্লেখ করেন। ১৯২২ সালে রব জে কুক অ্যান্ড হ্যামন্ড প্রকাশিত তাঁর বই কলকাতা টিউব রেলওয়েতে সমস্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। রেলপথটিতে সম্পূর্ণ ভ্রমণের জন্য টিকিটের দাম ধরা হয় তিন আনা।

                                     

1.2. ইতিহাস পরিকল্পনা

১৯৪৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের তদনীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায় কলকাতার ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে শহরে একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কথা বিবেচনা করেন। এই মর্মে একটি ফরাসি বিশেষজ্ঞ দলকে দিয়ে সমীক্ষা চালানো হলেও, কোনো সুসংহত সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি। দিল্লি ও অন্যান্য শহরগুলিতে শহরের উপরি ক্ষেত্রফলের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা নির্ভর হলেও কলকাতার ক্ষেত্রে তা মাত্র ৪.২ শতাংশ ফলে সমস্যার দ্রুত সমাধানের পরিকল্পনা করা শুরু হয়৷ এরপর ১৯৬৯ সালে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট রেলওয়ে নামে একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। এই প্রকল্পের প্রতিবেদনে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই বলে জানানো হয়। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যানে কলকাতার জন্য মোট ৯৭.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মেট্রো লাইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পাঁচটির মধ্যে তিনটিকে বেছে নেওয়া হয়৷ এগুলি হলো:

  • বিধাননগর – রামরাজাতলা লাইন ২, বর্তমানে হাওড়া ময়দান শৈলেন মান্না স্টেডিয়াম অবধি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা রয়েছে
  • দমদম – টালিগঞ্জ লাইন ১, বর্তমানে এটি দক্ষিণেশ্বর থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত
  • দক্ষিণেশ্বর – ঠাকুরপুকুর এটি বর্তমান দক্ষিণেশ্বর - সেণ্ট্রাল অবধি বিস্তৃত লাইন ১ ও সেণ্ট্রাল থেকে জোকা বিস্তৃত লাইন ৩ এর অন্তর্হিত এবং নির্মাণাধীন

এই তিনটি পথের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপিত হয় ব্যস্ততম উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত ১৬.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট দমদম-টালিগঞ্জ লাইনটির উপর। ১৯৭২ সালের ১ জুন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। আনুমানিক ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রস্তাবিত লাইনটির কাজ পুরোপুরিভাবে সম্পূর্ণ করে দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়৷

                                     

1.3. ইতিহাস নির্মাণকার্য

ভারতের প্রথম মেট্রো হিসেবে কলকাতা মেট্রোটি খুবই প্রাথমিক স্তরের যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কাট এন্ড কভার পদ্ধতি শিল্ড টানেলিং পদ্ধতি এইগুলি মূলত এই পর্যায়ে ব্যবহার করা হয় ফলে কলকাতা মেট্রো দীর্ঘতর প্রচেষ্টা-সফল পদ্ধতির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়, তবে দিল্লি মেট্রোর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার দিকেই লক্ষ্য রাখা হয়। ফলস্বরূপ কলকাতা মেট্রো প্রস্তাবের অনুমোদন পাওয়ার পরেও ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরঙ্গ রেলপথের কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রায় ২৩ বছর সময় অতিবাহিত হয়।

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ২৯ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৩-৭৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৭৭-৭৮ সালে অর্থের জোগান বন্ধ থাকা, ভূগর্ভস্থ পরিষেবাগুলির স্থানান্তরণ, আদালতের নানা স্থগিতাদেশ, কাঁচামালের অনিয়মিত সরবরাহ ইত্যাদি কারণে প্রকল্প রূপায়ণে অযথা দেরি হতে থাকে।১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই তারা জনবহুল অঞ্চলের নীচে, নিকাশি নালার জল সরবরাহ লাইন বৈদ্যুতিন তার টেলিফোনের তার ট্রামলাইন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খালগুলি অতিক্রম করে কাট অ্যান্ড কভার পদ্ধতিতে মেট্রোর কাজ এগিয়ে যেতে থাকে। এই সময় এনআইকেইএক্স হাঙ্গেরীয়ান কো-অপারেশন বুদাপেস্ট কোম্পানিটি এই প্রযুক্তি প্রদান করে। অবশেষে তদানীন্তন রেলমন্ত্রী আবু বারকাত আতাউর গণী খান চৌধুরীর বিশেষ উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা, ও কূটনৈতিক দূরদৃষ্টির ফলে প্রকল্পের কাজে দ্রুততা আসে। ওই বছরই রাজস্ব থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেট্রো বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয় এবং নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং তার সরকার এই বিল পাশ করান।

১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এসপ্ল্যানেড-ভবানীপুর নেতাজি ভবন ৩.৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট রুটে ভারতের প্রথম তথা এশিয়ার পঞ্চম মেট্রো পরিষেবা কলকাতা মেট্রোর উদ্বোধন করেন।তপন কুমার নাথ এবং সঞ্জয় শীল মহাশয় এই সময়ে কলকাতার প্রথম মেট্রো চালানোর দায়িত্বে ছিলেন। পরপর ওই বছরই ১২ নভেম্বর চালু হয় দমদম-বেলগাছিয়া ২.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট রুটটিও। উল্লেখ্য, এটিই কলকাতা মেট্রোর দীর্ঘতম স্টেশন দূরত্ব। ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল টালিগঞ্জ অবধি ৪.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো সম্পসারিত হলে এসপ্ল্যানেড থেকে টালিগঞ্জ অবধি ১১টি স্টেশন নিয়ে ৯.৭৯ কিলোমিটার পথের কাজ সম্পূর্ণ হয়।

২২ নভেম্বর ১৯৯২ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া অংশটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এই বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশটি খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। টালিগঞ্জ অবধি সম্প্রসারণের দীর্ঘ আট বছর পরে ১৩ অগস্ট ১৯৯৪ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া শাখাটিকে ১.৬২ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করে শ্যামবাজার অবধি নিয়ে আসা হয়। সেই বছরের ২ অক্টোবর তারিখে ০.৭১ কিলোমিটার এসপ্ল্যানেড-চাঁদনি চক শাখাটি চালু হয়। শ্যামবাজার-শোভাবাজার-গিরিশ পার্ক ১.৯৩ কিলোমিটার ও চাঁদনি চক-সেন্ট্রাল ০.৬০ কিলোমিটার শাখাদুটি চালু হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ তারিখে। গিরিশ পার্ক থেকে সেন্ট্রালের মধ্যবর্তী ১.৮০ কিলোমিটার পথ সম্পূর্ণ হয় ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ তারিখে। এর ফলে বর্তমান মেট্রোলাইনটির কাজ সম্পূর্ণ হয়।

২০০৯ সালে টালিগঞ্জ বর্তমানে মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশন থেকে গড়িয়া বাজার বর্তমানে কবি নজরুল স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারিত নতুন মেট্রোপথের সূচনা করা হয়। ২০১৩ সালে দমদম থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত নতুন মেট্রোপথের সূচনা করা হয়।



                                     

1.4. ইতিহাস প্রধান পরিবর্তন

নোয়াপাড়ায় একটি নতুন চার-প্ল্যাটফর্ম ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন নির্মান করা হয়। এটি লাইন ১ এবং লাইন ৪ এর মধ্যে একটি ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন হিসাবে কাজ করবে। আপাতত, মাত্র দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে একবার লাইন ৪ চালু হয়ে গেলে, চারটি প্ল্যাটফর্মই চালু হবে। বর্তমান এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনটি আপগ্রেড করা হচ্ছে এবং লাইন ১, লাইন ২ এবং লাইন ৩ এর মধ্যে ইন্টারচেঞ্জ করার জন্য নতুন মেট্রো স্টেশনের সাথে ভূগর্ভস্পথ তইরি করা হচ্ছে।

                                     

2.1. রেলপথ উত্তর–দক্ষিণ মেট্রো করিডোরে লাইন ১

২২২.৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দমদম থেকে দক্ষিণেশ্বর ৬.২০ কিমি অবধি মেট্রোর উত্তরমুখী সম্প্রসারণ ও অনুমোদিত হয় ২০১০-১১ সালের রেল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দমদম থেকে নোয়াপাড়া ২.০৯ কিমি পর্যন্ত কাজটি ১০.৭.২০১৩ সালেচালু হয় এবং বারানগরে ২.৩৮ কিলোমিটার লাইন ৫ এর সাথে আন্তঃবদলসহ নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বরের অবধি আরভিএনএল দ্বারা নির্মিত হচ্ছে। এই বিভাগটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খোলার কথা থাকলেও, তা সম্ভব হয়নি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই অংশের যাত্রী সংখ্যা হবে আনুমানিক ৫৫,০০০ জন।

আনুমানিক ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কলকাতা মেট্রোর বিদ্যমান ভারতীয় রেলওয়ের সংকেত ব্যবস্থা থেকে যোগাযোগ ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উন্নীত কররা পরিকল্পনার প্রস্তাবটি কলকাতার মেট্রো রেলওয়ে সম্প্রতি ভারতীয় রেল প্রেরণ কঢ়ে, যাতে দুটি ট্রেন পরিচালনার মধ্যে সময়ের ব্যবধানটি ৫ মিনিট থেকে হ্রাস করে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে করা যায়। ভারতীয় রেল প্রস্তাবটি এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সংকেত ব্যবস্থার কাজ ২-৩ বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

                                     

2.2. রেলপথ জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো লাইন ৩

কলকাতা মেট্রো লাইন ৩ বা জোকা-বিবাদি বাগ মেট্রো হল কলকাতা মেট্রো এর একটি নির্নিয়মান লাইন।এটি দক্ষিণ কলকাতার জোকা থেকে মধ্য কলকাতার বিবাদি বাগ পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে।এই পথের মোট দৈর্ঘ্য্য হবে ১৬.৭২ কিলোমিটার।এর মধ্যে ৮.২২ কিলোমিটার হল ভূগর্ভোস্থ ও ৮.৩২ কিলোমিটার হল উত্তলিত পথ।।এই মেট্রো পথের জোকা থেকে মোমিনপুর পর্যন্ত উত্তলিত পথে ও মোমিনপুর থেকে বিবাদিবাগ পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পথে নির্মাণ করা হবে। এই যাত্রাপথে প্রস্তাবিত স্টেশন:

                                     

2.3. রেলপথ নোয়াপাড়া–বারাসাত মেট্রো লাইন ৪

কলকাতা মেট্রো লাইন ৪ বা নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রো দমদমের নোয়াপাড়া, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বারাসাতকে যুক্ত করবে। এই পথের মোট দৈর্ঘ্য ১৭.১৩ কিলোমিটার এবং এই মোট্রো পথে ৯ টি মেট্রো স্টেশন তৈরি হবে।

                                     

2.4. রেলপথ বরানগর–ব্যারাকপুর মেট্রো লাইন ৫

বরানগর এবং ব্যারাকপুএর মাঝে নির্মিত হবে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো বা কলকাতা মেট্রো লাইন ৫। এই ১২.৪০ কিমি পথে মোট ১১ টি মেট্রো স্টেশন থাকবে।

                                     

2.5. রেলপথ কবি সুভাষ–বিমানবন্দর মেট্রো লাইন ৬

নিউ গড়িয়া স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ইএম বাইপাস বরাবর কালিকাপুর, আনন্দপুর, রুবি, ভিআইপি বাজার, পরমা আইল্যান্ড, চিংড়িঘাটা হয়ে ডানদিকে বেঁকে নিকোপার্ক সেক্টর ফাইভ, টেকনোপলিস, নিউ টাউন হয়ে ভিআইপি রোডের ওপর হলদিরাম ছুঁয়ে মেট্রো পৌঁছবে দমদম বিমানবন্দরে। ৩২ কিলোমিটার রেলপথে মোট ২৬টি স্টেশন তৈরি হবে। পুরো রাস্তায় মেট্রো যাবে মাটির ওপর দিয়ে এলিভেটেড ট্র্যাকে শুধু মাত্র বিমানবন্দর এর কাছে এসে এই মেট্রো লাইন সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করবে এবং বিমান বন্দরটি মাটির নিচে নির্মাণ করা হবে। বিমানবন্দর স্টেশনটি নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতানৈক্য মিটতেই এ বার এই প্রকল্পের জন্য কাজের বরাত দিয়ে দিল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড. ২২ অক্টোবর তিনটি ঠিকাদার সংস্থাকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ২০১১-২০১২ আর্থিক বছরের বাজেটে মোট ১৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রেল বোর্ড. আরভিএনএল এবং মেট্রো কর্তাদের আশা, নভেম্বর থেকেই কাজ শুরু করে দেবে ওই তিন ঠিকাদার সংস্থা. কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে বলেও তাদের আশা.

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ নিউ গড়িয়া থেকে রুবি পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারিত হবে।

ইতিমধ্যেই নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর হয়ে বারাসত মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর কাজও চলছে. সবকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে মেট্রোর যাত্রীরা বেশ কয়েকটি স্টেশন থেকে ট্রেন বদল করে অন্য রুটের মেট্রোয় চড়তে পারবেন।



                                     

3.1. বৈশিষ্ট্যসমূহ কারিগরি বৈশিষ্ট্যসমূহ ও নির্মাণপদ্ধতি

মেট্রো পরিকাঠামোো বিনির্মাণ একটি অত্যন্ত জটিল কাজ। কারণ, এই কাজে একযোগে প্রয়োগ করতে হয় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারগণ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বিদেশ থেকে আহরিত জ্ঞানকে সম্বল করে ভারতে প্রথম কয়েকটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটান কলকাতা মেট্রো সংস্থাপনকালে।

  • বায়ুচাপ ও এয়ারলক ব্যবহার করে সিল্ড টানেলিং করা হয়।
  • টানেল ট্রেন ভিএইচএফ-রেডিও সংযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় টিকিট বিক্রয় ও পরীক্ষণ বা চেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।
  • স্টেশন ও সুড়ঙ্গের পরিবেশ নিয়ণকল্পে শীততাপ-নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুচলনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • মাটির নিচে যখন খননকার্য চলছিল, তখন উপরের রাস্তায় ট্র্যাফিক পরিষেবা সচল রাখার জন্য প্রশস্ত ডেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।
  • শুষ্ক ধরনের ট্রান্সফর্মার ও সিএফ-৬ সার্কিট ব্রেকার্স সহ ভূগর্ভস্থ সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়।
  • ইলাস্টিক ফাস্টেনিং, রাবার প্যাড, এপক্সি মর্টার এবং নাইলন ইনসার্টস ব্যবহার করে ব্যাল্যাস্টবিহীন ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়।
  • ডায়াফ্রাম দেওয়াল ও শিট পাইলের সাহায্যে কাট অ্যান্ড কভার অর্থাৎ খনন ও ভরাটকরণ পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ চালানো হয়।
  • মাইক্রোপ্রসেসর-ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সাবস্টেশনগুলির জন্য তত্ত্বাবধায়কীয় রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়।
  • ট্র্যাকশনের জন্য তৃতীয় রেল কারেন্ট কালেকশনের ব্যবস্থা করা হয়।


                                     

3.2. বৈশিষ্ট্যসমূহ রোলিং স্টক

সমগ্র রেকটি ভেস্টিবিউল-বেষ্টিত। রোলিং স্টক সরবরাহ করে চেন্নাইয়ের আইসিএফ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে বেঙ্গালুরুর এনজিইএফ। এই রোলিং স্টকগুলি অদ্বিতীয়, কারণ ডবলিউএজি-৬ সিরিজের কয়েকটি লোকোমোটিভ ছাড়া এগুলি ভারতের একমাত্র এন্ড-মাইন্টেড ক্যাব দরজা-বিশিষ্ট।

কলকাতা মেট্রোর ভূগর্ভস্থ রেল পরিষেবার জন্য আইসিএফ এই কোচগুলি বিশেষ নকশায় নির্মিত করে সরবরাহ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • ট্রেনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। ড্রাইভার কেবল তত্ত্বাবধান করে থাকেন।
  • আসন্ন স্টেশনের নাম ঘোষণা করে গণসম্বোধন ব্যবস্থাও চালু আছে। ট্রেন স্টেশনে উপস্থিত হলে সেই স্টেশনের নামও ঘোষণা হয়ে থাকে। এই ঘোষণা হয় বাংলায় এবং তারপর ঘোষণার হিন্দি ও ইংরেজি অনুবাদও সম্প্রচারিত হয়। ট্রেনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ট্রেন ক্রিউ-এর যে কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এই ব্যবস্থায় সরাসরি যাত্রীদের সম্বোধন করে ঘোষণা করতে পারেন।
  • স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা/বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা ও নিরবিচ্ছিন্ন ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে।
  • ট্র্যাকশনের বিদ্যুৎসংযোগ তৃতীয় রেল বিদ্যুৎ সংগ্রহ ব্যবস্থায় লব্ধ হয়।
  • কোনওরকম মানবিক ব্যর্থতার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন রক্ষণব্যবস্থা লব্ধ, এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রযুক্ত হয়ে হয়।

এই সকল অত্যাধুনিক কলাকৌশলবিশিষ্ট কোচগুলির নকশা ও নির্মাণ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের। সুরক্ষা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে বিবেচিত হয়। কোনওরকম কারিগরি সহযোগিতা ছাড়াই যা লব্ধ হয়ে থাকে। সমগ্র ব্যবস্থাটি ২৩৫৬ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন।

                                     

4. আরও সম্প্রসারণ

২০১২ সালে রাইট্স শহরতলি অঞ্চলগুলিকে কলকাতা শহরের সাথে সংযোগ করার জন্য ১৬টি নতুন রুট নিরীক্ষণ করে। মূল রুটগুলি হল:

  • জোকা থেকে ডায়মন্ড হারবার ডায়মন্ড হারবার রোড হয়ে
  • বালি হলট থেকে চন্দননগর
  • হাওড়া ময়দান, শালিমার থেকে সাঁতরাগাছি কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফরশোর রোড হয়ে
  • কাভি সুভাষ থেকে বারুইপুরে ইএম বাইপাস হয়ে
  • সাঁতরাগাছি থেকে ধুলাগড়
  • মধ্যমগ্রাম থেকে ব্যারাকপুর সোদপুর রোড এবং কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে
  • ব্যারাকপুর থেকে কল্যাণী কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে
  • জোকা থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার ঠাকুরপুকুর হয়ে
  • বারাসত থেকে ব্যারাকপুরে রাজ্য সড়ক ২ হয়ে
  • মাঝেরহাট থেকে রুবি কালিঘাট এবং বালিগঞ্জ হয়ে
  • বসিরহাট থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার, কবি সুভাষ হরোয়া এবং ভাঙ্গার হয়ে
                                     

5.1. পরিষেবা আসন সংরক্ষণ

২০০৮ সালে, কলকাতা মেট্রো রেল মহিলাদের জন্য দুটি সম্পূর্ণ কোচ সংরক্ষণের করার ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ৪১ এই ব্যবস্থাটি অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয় এবং প্রচুর যাত্রীদের মহিলা সহ অসুবিধার কারণ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনাটি মেট্রো কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেয়।

এখন প্রতিটি কোচের মধ্যে আসনের একটি নির্দিষ্ট অংশ মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত। কোচের প্রতিটি প্রান্তে ৪ টি আসন বিভাগ প্রবীণ নাগরিকদ ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত এবং কোচের মাঝের দুটি দরজার মধ্যবর্তী আসন বিভাগ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।

                                     

5.2. পরিষেবা ভাড়া কাঠামো

মেট্রো রেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। দুরত্ব অনুসারে এই ভাড়া পরিবর্তিত হয়ে থাকে। একটি ত্রিবার্ষিক বিরতিপর সর্বশেষ ১ অক্টোবর ২০০১ তারিখে মেট্রোর ভাড়া পর্যালোচিত হয়েছিল। বর্তমানের ভাড়া কাঠামোটি নিম্নরূপ: alt=|থাম্ব|200x200পিক্সেল|কলকাতা মেট্রোর টোকেন

                                     

5.3. পরিষেবা টোকেন

১৯৮৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চৌম্বকীয় টিকিটিং স্ট্রিপ সিস্টেমটি ব্যবহার করার পরে, কলকাতা মেট্রো ২০১১ সাল থেকে সেন্টাফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস সিআরআইএস দ্বারা রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন আরএফআইডি টোকেন চালু করেছিল। পুরানো চৌম্বকীয় স্ট্রিপ রিডার গেটগুলি নতুন আরএফআইডি পাঠক দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়।

                                     

6. সমস্যা

যেহেতু কলকাতা মেট্রোটি ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত হয়েছিল, তখন কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল। টানেলের মাপ এবং ভারতীয় রেলের অধীনে থাকার কারণে, কলকাতা মেট্রো ১,৬৭৬ মিলিমিটার ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ব্রডগেজ বোগির উপর মিটার গেজ শেল ২.৭ মিটার চত্তড়া বেছে নেওয়া হয়।

                                     
  • ব ঙ গল ক ম ক য ল ম ট র স ট শন হল কলক ত ম ট র - এর ইস ট - ওয স ট ম ট র ল ইন র একট গ র ত ব প র ণ উত ত ল ত ম ট র স ট শন এই স ট শনট ব ধ ননগর এল ক য
  • রব ন দ রসদন ম ট র স ট শন হল কলক ত ম ট র র ব যস ততম স ট শনগ ল র একট স থ ন য স স ক ত ক ন দ র রব ন দ রসদন র ন ম স ট শনট ন ম ঙ ক ত জওহরল ল ন হ র
  • স ট স ন ট র ম ট র স ট শন হল কলক ত ম ট র - এর ইস ট - ওয স ট ম ট র ল ইন র একট গ র ত ব প র ণ উত ত ল ত ম ট র স ট শন এই স ট শনট ব ধ ননগর এল ক য অবস থ ত
  • হ মন ত ম খ প ধ য য ম ট র স ট শন হল কলক ত ম ট র র গড য - ব ম নবন দর কর ড র র একট স ট শন এই স ট শনট সঙ গ তশ ল প হ মন ত ম খ প ধ য য র ন ম ন ম ঙ ক ত
  • ম ঝ রহ ট ম ট র স ট শন হল ভ রত র কলক ত র দক ষ ণ ঞ চল র জ ক য কলক ত ম ট র র ল ইন - এর একট স ট শন স ট শনট য এল ক ত স ই এল ক র ন ম এই স ট শনট র ন মকরণ
  • বর ণ স নগ প ত ম ট র স ট শনট ধ প র পরম আইল য ন ড স য ন স স ট র ন কটবর ত কলক ত ম ট র ল ইন এর একট স ট শন বর তম ন পত র ক র প রত ষ ঠ ত বর ণ স নগ প ত র

Users also searched:

...