Back

ⓘ হলুদগলা মার্টিন




হলুদগলা মার্টিন
                                     

ⓘ হলুদগলা মার্টিন

হলুদগলা মার্টিন এক প্রকার মাংশাসী মাঝারি জাতের বেজি জাতীয় প্রাণী। এই প্রাণীটি সারা বিশ্বে বিপন্নপ্রায় হয়ে উঠেছে। সাইবেরিয়া ও কোরিয়াতে এদের শিকার করা হয় সুন্দর চামড়ার জন্য। তবে এদের মাংস কটু গন্ধযুক্ত থাকায় মাংসের জন্য শিকার করা হয় না। এদের রঙ কমলা-হলুদ থেকে গাঢ় বাদামী এবং মসৃণ হলুদ রঙ গলায়। এদের ক্রান্তীয় বনভূমিতে দেখা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফুট উপরে এদের অবস্থান। মার্টিন আকার-আয়তনে অনেকটা বেজির মতো। তবে রং অনেক বাহারি। এদের কান দুটো বেজির চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড় এবং বিড়ালের মতো গোলাকৃতির। মূলত গেছো প্রাণী হওয়ায় এদের পা শক্তিশালী। লোমশ লম্বা লেজ গাছে ঝাঁপাঝাঁপির সময় ভারসাম্য রক্ষা করে।

                                     

1. গঠন

এদের মাথার দিককার রং হালকা বাদামি, তবে ঋতুভেদে দেহের রং হয় দুই ধরনের - কমলা হলদে, নয়তো কালচে বাদামি। লেজের রং কালো। গলার রং মাখন হলদে। কান, চোখ ও মুখের আশপাশে সাদাটে লোম রয়েছে। মাথাসহ দেহ ৪০ - ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা। আর লেজের দৈর্ঘ্য ৩৮ থেকে ৪৩ সেমি। ওজন গড়ে ৩ দশমিক ৪ কেজি। মাংসাশী গোত্রের এই প্রাণীটি একা থাকতে পছন্দ করে। এরা নিশাচর, তবে দিনের বেলায়ও শিকার করে। মাটিতে, গাছে দুই জায়গায়ই শিকার ধরে। লম্বাটে শরীরের মার্টিন ছোট হলেও এদের চেয়ে বড় আকারের প্রাণী এরা কবজা করতে পারে।

                                     

2. বাংলাদেশে

জীববিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বাংলাদেশের মিশ্র বৃষ্টিপাতের জঙ্গলে মার্টিন বা নেউল জাতীয় প্রাণী থাকতে পারে। এরা সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে থাকে। তবে এত দিন কারও চোখে পড়েনি। যদিও আশির দশকে পাখিবিদ ডেভিড জনসন শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়ার বনে প্রাণীটি দেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু সেই বিরল দর্শনের কোনো আলোকচিত্র-সাক্ষী নেই।

                                     

3. খাবার

কাঠবিড়ালিই মার্টিনের অন্যতম খাদ্য। এ ছাড়া ঈগল, বনমোরগ, মথুরাসহ নানা জাতের পাখি এরা ধরে খায়। মাটিতে চলার সময় এরা লাফিয়ে চলে। তখন ইঁদুর, সাপ, কেন্নো এদের হাত থেকে নিস্তার পায় না। মাংসাশী হলেও এরা রসাল ফল, জাম খেতে পছন্দ করে। মিলনকাল গ্রীষ্মের শুরু অথবা শেষ দিকে। গর্ভকাল ১২০ দিনের। দুই থেকে পাঁচটি বাচ্চা দেয়। বাচ্চার সব দায় মা পালন করে। তিন থেকে চার মাস বাচ্চারা মায়ের সঙ্গে থাকে। বিপদে পড়লে, বিশেষ করে শত্রুর তাড়া খেলে মার্টিন পায়ু সংশ্লিষ্ট গ্রন্থি থেকে তীব্র বদ গন্ধ ছাড়ে।

                                     

4. বিপন্ন প্রাণী

হলুদগলা মার্টিন আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্নপ্রায় প্রাণী। ঝলমলে চামড়াই এদের প্রধান শত্রু। শিকারিদের লক্ষ্য থাকে ওই চামড়া সংগ্রহ। ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়া হয়ে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য পর্যন্ত এলাকায় প্রাণীটি দেখা যায়।