Back

ⓘ শিমশোন বিকল্প




শিমশোন বিকল্প
                                     

ⓘ শিমশোন বিকল্প

শিমশোন বিকল্প বলতে কিছু সামরিক বিশ্লেষক ও লেখকের দেয়া একটি নামকে বোঝায়, যা দিয়ে ইসরায়েলের একটি শত্রু নিরস্তকরণ কৌশলকে নির্দেশ করা হয়, যা অনুসারে ইসরায়েল যদি কখনও বিদেশী সামরিক শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং এতে ইসরায়েলের সিংহভাগ যদি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তাহলে "শেষ উপায়" হিসেবে দেশটি শত্রুর বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে বিশাল প্রতিঘাত দেবে। তবে কোনও কোনও লেখক এই পরিভাষাটি দিয়ে ইসরায়েল নয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পরিবর্তে চিরায়ত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে, এমন পরিস্থিতিও বর্ণনা করেছেন।

নামটি বাইবেলের ইসরায়েলি বিচারক শিমশোনের সাথে সম্পর্কিত। শিমশোন প্রাচীনকালে ফিলিস্তিনিদের একটি মন্দিরের স্তম্ভগুলি দুহাতে ঠেলে সরিয়ে দিলে ছাদ ধ্বসে পড়ে শিমশোন নিজে মারা যান এবং সাথে সাথে তাঁকে আটককারী হাজার হাজার ফিলিস্তিনিও মারা যায়। মারা যাবার মুহূর্তে শিমশোন চিৎকার করে বলেছিলেন, "আমাকে ফিলিস্তিনিদের সাথে মরতে দাও!" বিচারকগণ ১৬:৩০

                                     

1. পারমাণবিক দ্ব্যর্থকতা

ইসরায়েল তার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি নেই, তা স্বীকার বা অস্বীকার কোনওটাই করে না এবং থাকলে কীভাবে সেগুলিকে ব্যবহার করবে, সে ব্যাপারেও কোনও বর্ণনা দেয় না। ইসরায়েল সরকারের এই নীতিটিকে "ইচ্ছাকৃত পারমাণবিক দ্ব্যর্থকতা" বা "পারমাণবিক অস্পষ্টতা" নাম দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েল সরকারের বাইরের কোনও ব্যক্তির পক্ষে দেশটির প্রকৃত পারমাণবিক নীতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণন করা কঠিন। একই সময়ে এই কৌশলের সুবাদে ইসরায়েল অন্যান্য দেশের সরকারের উপলব্ধি, কৌশল ও কর্মকাণ্ডের উপর সুক্ষ্ম প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে কিছু ইসরায়েলি নেতা উন্মুক্তভাবে তাদের দেশের পারমাণবিক ক্ষমতার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন: ১৯৭৪ সালে এফ্রিম কাতজির, ১৯৮১ সালে মোশে দায়ান, ১৯৯৮ সালে শিমোন পেরেস এবং ২০০৬ সালে এহুদ ওলমের্ট।

২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পদে নিয়োগ লাভের আগে নিশ্চিতকরণ শুনানিতে রবার্ট গেটস স্বীকার করেন যে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ২০০৮ সালের প্রকাশিত দ্য কালচার অভ ওয়ার নামক গ্রন্থে ইসরাটেলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন ভান ক্রেফেল্ড লেখেন যে গেটসের এই স্বীকারোক্তিপর থেকে ইসরায়েলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনও কথা বা লেখালেখি করলে "গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাগার বরণের" ঝুঁকি আছে। এ কারণে ইসরায়েলি লেখক ও আলোচকেরা "শেষ বিচারের দিনের অস্ত্র" এবং "শিমশোন বিকল্প" কথাগুলি ব্যবহার করেন।

১৯৭৬ সালেই মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ বিশ্বাস করত যে ইসরায়েলের কাছে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। ২০০২ সাল নাগাদ একটি প্রাক্কলন অনুযায়ী ইসরায়েলের কাছে ৭৫ থেকে ২০০টির মত তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, যাদের প্রতিটির বিস্ফোরণ ক্ষমতা একাধিক মেগাটন পরিসীমার মধ্যে পড়ে। কেনেথ বাওয়ারের মতে ৪০০টির মতো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে। এগুলিকে স্থলভাগ, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব. ফলে ইসরায়েল যদি ধ্বংস হয়েও যায়, তার পরেও দেশটি দ্বিতীয় আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে।

২০০৮ সালের ২৫শে মে তারিখে হে উৎসবে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার বলেন ইসরায়েলের কমপক্ষে ১৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে।

১৯৯১ সালে মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও পুলিৎজার পুরষ্কার বিজয়ী রাজনৈতিক লেখক সিমোর হার্শ "স্যামসন অপশন" নামের একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন, যার ভূমিকায় তিনি লেখেন যে "এই বইটিতে ইসরায়েল কীভাবে গোপনে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে লেখা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে কীভাবে আইজেনহাওয়ার আমল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এই গোপন কথাটি অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করেছেন, গোপন কথাটি প্রকাশের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে এড়িয়ে গেছেন।"

                                     

2. লেখকদের মতামত

মার্কিন-ইহুদি লেখক রন রোজেনবাউম তাঁর ২০১২ সালে রচিত গ্রন্থ হাও দি এন্ড বিগিন্‌স: দ্য রোড টু আ নিউক্লিয়ার ওয়ার্ল্ড ওয়ার থ্রি -তে লেখেন যে যদি ইসরায়েল "দ্বিতীয় একটি ইহুদি গণনিধনের" হলোকস্ট বা শোওয়া শিকার হয়, তাহলে দেশটি পৃথিবীর স্তম্ভস্বরূপ দেশগুলিকে ধ্বসিয়ে দিতে পারে, যেমন "মস্কো, ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানী" এমনকি "ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলিও"। তিনি লেখেন "আনুপাতিক প্রতিঘাতকে পরিহার করাই" শিমশোন বিকল্পের সারকথা"।

                                     

3. আরও দেখুন

  • প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ
  • দাহিয়া মতবাদ
  • পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসরায়েল
  • বিশাল প্রতিঘাত
  • দানিয়েল প্রকল্প
  • উপপ্লব অধ্যাদেশ
  • ইসরায়েল ও গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রসমূহ
  • কোনও প্রথম ব্যবহার নয়
  • পূর্ব-নিবারণমূলক পারমাণবিক আঘাত
                                     

4. গ্রন্থ ও রচনাপঞ্জি

  • Cohen, Avner ১৯৯৮, Israel and the Bomb, Columbia University Press উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে link.
  • Hersh, Seymour ১৯৯১, The Samson Option: Israels Nuclear Arsenal and American Foreign Policy, Random House উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে link.
  • Rosenbaum, Ron ২০১২, How the End Begins: The Road to a Nuclear World War III, Simon & Schuster, আইএসবিএন 978-1-4165-9422-2 উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে link.
                                     

5. বহিঃসংযোগ

  • Ross Dunn, Sharon eyes Samson option against Iraq, Scotsman.Com news, November 3, 2002.
  • "Strategic Doctrine", Israel, Federation of American Scientists উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে link.
  • David Hirst, The War Game, a controversial view of the current crisis in the Middle East, The Observer Guardian, September 21, 2003.
  • Ross Dunn, In war, Israel retains the Samson option, Sydney Morning Herald, September 20, 2002.
  • Louis René Beres, Israel and Samson. Biblical Insights on Israeli Strategy in the Nuclear Age ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে, JerusalemSummit.Org.